নির্বাসিত অবস্থায় থাকা শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তিনি দলের উচ্চপর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরেই আত্মসমর্পণ করার পরিকল্পনা করছেন। এই তথ্য তিনি রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে জানান।
রয়টার্স শুক্রবার ওই সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদনে জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে নেওয়া কথোপকথনে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি থাকা স্বীকার করে বলেন, “দেশে ফেরার পর তারা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে যেতেই হবে। আমার দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই তা যেন নিজের মাটিতেই হয়।”
প্রসঙ্গত, গত জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত অপরাধের দায়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত নভেম্বর শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বর্তমানে আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোর রাজনৈতিক কার্যক্রমও নিষিদ্ধ রয়েছে।
সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি এবং তার দলের সদস্যরা নিজ উদ্যোগেই দেশে ফেরত এসে আদালতের কাছে নিজেদের সোপর্দ করাতে চান। এর মাধ্যমে তারা বর্তমান কর্তৃপক্ষের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা বিচার করতে চান। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে ফেরার বিষয়ে কোনো বিদেশি শক্তির সাথে পরামর্শ করেননি। তিনি জানান, “তারা আমাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়ে বারবার ভারতের কাছে চিঠি পাঠাচ্ছে। আমি নিজেই চলে যাব।”
রয়টার্সের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুই বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা কাটিয়ে বর্তমান প্রশাসন যখন স্থিতিশীলতা ফেরানোর চেষ্টা করছে, তখন শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। নির্বাসিত হওয়ার পর এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার জন্য সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানিয়ছেন।
রয়টার্স তাদের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করে যে, আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার এই ঘোষণার ব্যাপারে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি বলে রিপোর্ট করা হয়েছে।