সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকায় ৭টি চীনা ব্যাংক

চীনের ব্যাংকগুলোই এখন বিশ্বের শীর্ষস্থানে—আর্থিক ক্ষমতার দিক থেকে দেশের অবস্থান আরো শক্তিশালী করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘দ্য ব্যাংকার’-এর সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী সম্পদ ও মূলধনের ভিত্তিতে বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের মধ্যে ৭টি চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। এই ফলাফল বেইজিংয়ের বৈশ্বিক আর্থিক প্রভাব বাড়ার সরাসরি প্রমাণ বলে বিশ্লেষকরা বলছেন।

রিপোর্টে বলা হয়েছে যে বিশ্বের চারটি সর্ববৃহৎ ব্যাংকই চীনের—ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড কমার্শিয়াল ব্যাংক অব চায়না (ICBC), চায়না কনস্ট্রাকশন ব্যাংক, অ্যাগ্রিকালচারাল ব্যাংক অব চায়না এবং ব্যাংক অব চায়না। এই চারের পরে পঞ্চম স্থানে আছে যুক্তরাষ্ট্রের জে.পি. মোরগ্যান চেজ। এবারে প্রথমবারের মতো শীর্ষ দশে জায়গা করেছে পোস্টাল সেভিংস ব্যাংক অব চায়না। অন্যদিকে, মার্কিন ব্যাংকগুলোর মধ্যে ব্যাংক অব আমেরিকা ষষ্ঠ এবং সিটিগ্রুপ অষ্টম স্থানে রয়েছে।

পরিসংখ্যান দেখায় যে তালিকায় থাকা চীনা ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৪.৮ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা তালিকাভুক্ত মার্কিন ব্যাংকগুলোর মোট প্রায় ২৫ ট্রিলিয়ন ডলারের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি। যদিও লাভ-উপার্জনের দক্ষতার মাপকাঠিতে কিছু ক্ষেত্রে মার্কিন ব্যাংকগুলো এগিয়ে আছে, চীনা ব্যাংকগুলোর সম্মিলিত কর-পূর্ব (pre-tax) মুনাফা প্রায় ৩৯২ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকদের মত, চীন ইউয়েনকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বেশি ব্যবহারের প্রচার এবং বিকল্প আন্তসীমান্ত অর্থায়ন ব্যবস্থা গড়ে তোলার মাধ্যমে বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করছে। তাদের বলাই যে, কৌশলগতভাবে এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী আর্থিক লেনদেন এবং শক্তির ভারসাম্যে প্রভাব ফেলবে।

‘দ্য ব্যাংকার’-এর প্রধান সম্পাদক সিলভিয়া পাভোনি বলেছেন, চীনা ব্যাংকগুলোর সম্প্রসারণ ও ইউয়েনের আন্তর্জাতিকীকরণ তাদের ভবিষ্যৎ প্রবৃদ্ধি ও মুনাফার প্রধান চালিকাশক্তি হবে। বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও চীনের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা আর অগ্রগতি আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, এমনটাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন