বুধবার, ১৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডাবে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই: নওগাঁ পুলিশের জালে চার সদস্যের প্রতারক চক্র

নওগাঁ জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ডাবের পানিতে চেতনানাশক মেশিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই করা আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধারসহ একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ ও চেতনানাশক ট্যাবলেট জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনা ঘটেছিল গত ১০ জুলাই। একজন প্রতারক নওগাঁ শহরের একজন অটোরিকশা চালকের কাছ থেকে রিজার্ভ ভাড়া নিয়ে তাকে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখাতে নিয়ে যায়। হাসপাতালে গিয়ে আরও দুই সহযোগী তাদের নবজাতকের কথা বলে চালকের সঙ্গে বন্ধুত্ব দেখায় এবং মিষ্টি খাওয়ায়। পরে তারা চালককে একটি ডাব খেতে অফার করলে ওই ডাবের পানিতে আগে থেকেই চেতনানাশক মিশিয়ে রাখা ছিল। ডাব খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই চালক অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতারকরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম নওগাঁ সদর মডেল থানাকে মামলা গ্রহণ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন। কেসের তদন্তে সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যভাণ্ডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়।

নওগাঁ সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১২ জুলাই ওই চারজনকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন তাদের নওগাঁ নিয়ে আসে। একই অভিযানে গাইবান্ধা থেকে ছিনতাইকৃত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নাম ও বয়সিক তথ্যানুযায়ী তারা হলেন— কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লোহাইমুড়ি গ্রামের ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের হুমায়ুন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘি পূর্বপাড়া গ্রামের খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই গ্রামের আব্দুল গফুর (৪১)।

অভিযানে ইব্রাহীমের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি রিভোট্রিল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। হুমায়ুনের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন এবং একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি ফিরে পেয়েছে পুলিশ এবং খাজা মিয়ার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেছে। ইব্রাহীম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানা এলাকায় হত্যাসহ একাধিক মামলা পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক মিশিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের অজ্ঞান করে নগদ অর্থ, যানবাহন ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে নিচ্ছিল।

পুলিশ বর্তমানে চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত ও অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গ্রেপ্তারকদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে মামলার পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন