ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরে সৌদি আরবের দুইটি তেলবাহী জাহাজে হামলার দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে, সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ওই হামলা চালানো হয়েছে। এ বিষয়ে সৌদি আরব এখনও কোনো মন্তব্য করেনি।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহইয়া সারি হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, ‘সশস্ত্র বাহিনীর ঘোষিত সামুদ্রিক অবরোধ অমান্য করায় এনসেলা ও লাইলিয়া নামের দুটি সৌদি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।’
অপরদিকে জাহাজ চলাচলবিষয়ক সংস্থা ইউকে মেরিটাইম ট্রেড অর্গানাইজেশন সেন্টারের (UKMTO) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি উপকূল থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার দূরে এক জাহাজে হামলা ঘটেছে এবং ওই জাহাজে আগুন লেগেছে। তারা জাহাজের ক্রুদের হতাহতের বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি।
হুতিরা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে যে লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের কোনো জাহাজ চলাচল করার অনুমতি দেওয়া হবে না। তারা সতর্ক করে বলেছে, লোহিত সাগরের প্রবেশদ্বার বাব এল মান্দেব রুট থেকে কোনো জাহাজ যদি প্রবেশ বা প্রত্যাশা করে তবেও তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।
রয়টার্সসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে হুতিরা সর্বাত্মক নৌ-অবরোধ কার্যকর করার কথা জানায়। তাদের যুক্তি—দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর ধরে ইয়েমেনের জনগণের ওপর চালানো অবরোধ, সম্পদ লুণ্ঠন ও বন্দর ও বিমানপথে নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটার আগে, হুতিদের নিয়ন্ত্রিত সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের হামলা হওয়ার অভিযোগ তুলে গত সপ্তাহে হুতিরা সৌদি লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে জানিয়েছিল। ওই হামলার পর থেকে চার বছর ধরে অনানুষ্ঠানিকভাবে চলা যুদ্ধবিরতি কার্যত ভেঙে গেছে।
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী দেশের প্রতিক্রিয়া কেমন হবে তা এখন নজরদারিতে রয়েছে। সৌদি আরবের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া পর্যন্ত হামলার দাবি ও তার প্রভাব নিয়ে অজানাই বেশি।