বৃহস্পতিবার, ৩০শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চিনিতে পাওয়া যাচ্ছে মাইক্রোপ্লাস্টিক, জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন উদ্বেগ

দেশের বাজারে উপলব্ধ চিনি থেকে আশঙ্কাজনক পরিমাণে অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক বা মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত করেছে গবেষকরা। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাজার থেকে সংগৃহীত চিনির প্রায় ৯৫ শতাংশেই এই ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। গবেষকদের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এক কেজি চিনিতে প্রাপ্ত প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ২১০ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৫০৮টি পর্যন্ত হতে পারে। এই গবেষণাটি আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে, এবং এটি সম্পন্ন করেছেন বাংলাদেশি গবেষক সাদিয়া আফরিন, নায়ন হোসেন ও মোস্তাফিজুর রহমান, যা প্রকাশিত হয়েছে আন্তর্জাতিক জার্নাল অব ফুড কম্পোজিশন অ্যান্ড অ্যানালিসিসে।

গবেষণায় ঢাকার বিভিন্ন খুচরা বাজার থেকে সংগৃহীত ব্র্যান্ডেড এবং খোলা চিনির সূক্ষ্ম বিশ্লেষণ করা হয়। ফলাফল দেখায়, প্যাকেটজাত বা ব্র্যান্ডেড চিনিতে গড়ে প্রতি কেজিতে ৩২২টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা রয়েছে বলে শনাক্ত হয়েছে, যেখানে খোলা চিনিতে এই সংখ্যা বেশি, গড়ে প্রায় ৪০৩টি। যদিও এই পার্থক্য পরিসংখ্যানগতভাবে বেশি নয়, তবে তা নির্দেশ করে যে, খোলা চিনির দূষণ হবে আরও বেশি। এই ক্ষুদ্র কণাগুলোর আকার ব্যাপ্তি ১২ মাইক্রোমিটার থেকে ৩.১৯ মিলিমিটার পর্যন্ত। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই কণাগুলোর মধ্যে ৬৩ শতাংশ তন্তু বা ফাইবার, ২১ শতাংশ ফ্র্যাগমেন্ট বা খণ্ড, ১১ শতাংশ লেয়ারের মতো পাতলা স্তর এবং ৫ শতাংশ গোলাকার কণা।

রাসায়নিক বিশ্লেষণে নিশ্চিত করা হয়েছে, এই কণাগুলোর মধ্যে পিভিসি, পিইটি, এইচডিপিই, নাইলন এবং এবিএসের মতো ক্ষতিকারক প্লাস্টিকের উপাদান উপস্থিত রয়েছে। গবেষকদের ধারণা, চিনির পরিশোধন এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের নানা পর্যায়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপ, ফিল্টার, কনভেয়ার বেল্ট ও প্যাকেজিং থেকে এই দূষণ ঘটছে। পাশাপাশি, পরিবেশে বাতাসে ভাসমান ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার মাধ্যমেও চিনিতে এ দূষণ প্রবেশ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

গবেষণায় মানুষের স্বাস্থ্যে এই মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ করে জানানো হয় যে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি দিনে তার শরীরের কেজি অনুযায়ী তার প্রায় ০.২১৭৮টি ক্ষুদ্র প্লাস্টিকের কণা গ্রহণ করছেন। গবেষকেরা সতর্ক করে বলছেন, যদিও এই মাত্রা এখনো সরাসরি ক্ষতিকর মনে না হলেও, এটি একটি বড় সতর্কবার্তা। কারণ, চিনি মানুষের শরীরে নিয়মিত মাইক্রোপ্লাস্টিক প্রবেশের একটি অন্যতম উৎসে পরিণত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা নীতিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের বিরুদ্ধে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ জোরদার করতে ও প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পে অধিক পরিষ্কার ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন