সোমবার, ৩রা আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঢাকার চারপাশের নদীপথে ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা পুনরায় শুরু করছে সরকার

রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে নদীপথের ব্যবহার না just পরিবহন সমস্যার সমাধান, বরং এটি পর্যটন বিকাশেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে দেখা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে সরকার আবারও আধুনিক ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো ঢাকার চারপাশের নদীগুলোকে শুধুমাত্র যাতায়াতের জন্য না, বরং পর্যটনসুখের জন্যও উন্নত করা। মূল রুটে ওয়াটার বাস গাবতলী থেকে শুরু করে আশুলিয়া, টঙ্গী, নারায়ণগঞ্জ এবং সদরঘাট দিয়ে ফিরে গাবতলীতে ফিরবে। তবে এই পরিকল্পনায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো নদীর দূষণ। জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, ওয়াসা ও বিভিন্ন শিল্পকারখানার কারণে অন্তত ৪২৪টি পয়েন্ট দিয়ে সরাসরি বর্জ্য নদীতে ফেলছে। এসব দূষণের উৎস বন্ধ করতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নদীর পরিবেশের উন্নতি হলে মানুষ দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশে যাত্রা করতে পারবে এবং সুন্দরভাবে ভ্রমণের আনন্দ উপভোগ করতে সক্ষম হবে।

অন্যদিকে, নৌপথের নির্মাণ ও চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সমাধানেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। টঙ্গীর রেলসেতুর উচ্চতা বড় আকারের ওয়াটার বাসের জন্য সমস্যা সৃষ্টি করছে, সেজন্য বিকল্প হিসেবে সেতুর এক পাশে যাত্রী নামিয়ে অন্য পাশে তুলনের ব্যবস্থা করার চিন্তাভাবনা চলছে। এছাড়া, নাব্যতা সংকট মোকাবিলা ও পর্যাপ্ত ওয়াটার বাসের নিশ্চিতকরণের ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। অতীতে বিআইডব্লিউটিসি এই সেবা চালানোর সময় বড় অংকের লোকসানে পড়ে যায়, তবে এখন কিছু বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এর অংশীদারিত্বে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সরকারের আশা, বর্তমানে কোনও নির্দিষ্ট বাজেট না থাকলেও, ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ করে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা হবে। এজন্য আগামী দুই মাসের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফলোআপ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বেসরকারি অংশীদারিত্ব ও কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত হবে। মূল লক্ষ্য হলো ঢাকার চারপাশের নদীপথকে একটি সুবিধাজনক, সাশ্রয়ী ও উপভোগ্য যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে উন্নীত করা।

পোস্টটি শেয়ার করুন