শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে শেখ হাসিনার বক্তব্যে বাংলাদেশের ক্ষোভ

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে মন্তব্য করলে বাংলাদেশ সরকার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। বুধবার (৫ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ওই দিন সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি অশ্রদ্ধা প্রকাশ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, এই অনুষ্ঠানের আয়োজন সম্পর্কে বাংলাদেশ আগেই সতর্ক করে দিয়েছিল, যাতে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা ছিল। তবুও ভারতীয় ভূখণ্ডে এই ধরনের প্রকাশ্য কর্মসূচির অনুমতি দেওয়ায় বাংলাদেশের গভীর অপ্রসন্নতা প্রকাশ হয়েছে। সেই সঙ্গে, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদন অস্বীকার করার জন্যও ব্যাপক সমালোচনা করেছে ঢাকা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির অনুযায়ী, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য বারবার আবেদন জানানো হলেও ভারতের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি। শেখ হাসিনার এই প্রচারমূলক বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে দু দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক এবং জনমানুষের পারস্পরিক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

পোস্টটি শেয়ার করুন