শুক্রবার, ১৯শে জুলাই, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

প্রবৃদ্ধি ৫.৬ শতাংশের পূর্বাভাস দিল বিশ্বব্যাংক, বাড়তে পারে মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিল বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির হিসাবে চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। এ বছর মূল্যস্ফীতির চাপ থাকারও আশঙ্কা করা হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টাস শীর্ষক প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ষাণ্মাসিক ভিত্তিক এই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংক বলছে, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির সূচক ঊর্ধ্বমুখী থাকবে। খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে থাকাই এর মূল কারণ। ডলারের দাম বাড়তে থাকায় আমদানি ব্যয় বাড়ছে। ফলে আমদানিকৃত খাদ্যপণ্য  এবং জ্বালানি কিনতে বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। সরকার আমদানি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রানীতি সংকোচনমূলক করার প্রভাব অর্থনীতিতে পড়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সরকার জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগের অর্থবছরেও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা একই ছিল। বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে—মূলত ব্যক্তিমানুষের ভোগব্যয়ের কারণে মূল্যস্ফীতির হার বাড়তি থাকবে। বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ নিম্নমুখী থাকায় আমদানি নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকবে এবং সে কারণে বেসরকারি বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির চাপ কমলে প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বাড়বে। আগামী অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। দেশের রপ্তানি নিয়ে বিশ্বব্যাংক বলছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি হচ্ছে না।

এটি আমাদের রপ্তানির জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। এ ছাড়া সদ্য সমাপ্ত জাতীয় নির্বাচনের আগে কিছু সময় অনিশ্চয়তা ছিল, বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে যার প্রভাব পড়ে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। তাদের আনুমানিক হিসাব, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬ শতাংশ। প্রবৃদ্ধির হার কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে তারা বলছে, আমদানি নিয়ন্ত্রণ, উপকরণ ও জ্বালানির উচ্চমূল্য আর তার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান বাহ্যিক ও আর্থিক চাপের প্রভাবে প্রবৃদ্ধির হার কমে গেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে মূল্যস্ফীতির সূচক ছিল ঊর্ধ্বমুখী। মুদ্রার অবমূল্যায়নের কারণে মুদ্রানীতির রাশ টেনে ধরা হয়। সেই সঙ্গে লেনদেনের ভারসাম্যে প্রভাব পড়ে, টান পড়ে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভে। আর্থিক খাত আরও দুর্বল হয়ে পড়ে এবং খেলাপি ঋণের পরিমাণ বেড়ে যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন