রবিবার, ৩১শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে এসেছেন রেকর্ড টাকা দু’বারের বেশি দান

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে এবার দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে ১২ কোটি ৯ লাখ ৩৭ হাজার ২২0 টাকা। এই আয়তনে এত টাকা আগে কখনো সংগ্রহ হয়নি। চার মাস ১৮ দিনের মধ্যে এই টাকা মসজিদের মোট ১৩টি দানবাক্সে জমা পড়েছে। গোনা শুরু के পর দেখা গেছে, শুধু টাকা নয়, সঙ্গে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা চুরান্তভাবে পাওয়া গেছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ এরশাদুল আহমেদ ও অন্যান্য কর্মকর্তা, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতিতে সকাল সোয়া সাতটার দিকে দানবাক্সগুলো খোলা হয়। এরপর, সকাল নয়টার দিকে পাগলা মসজিদে নিয়ে দানাগুলো গণনা শুরু হয়। খোদাই করে এই গণনায় অংশ নেন প্রায় পাঁচ শতাধিক গণনাকারী, এবং এই প্রক্রিয়া সন্ধ্যা আটটা পর্যন্ত চলে।

গত বছর, ২০২৫ সালের ১২ এপ্রিল, ১১টি দানবাক্স খুলে ২৮ বস্তা টাকা পাওয়া গিয়েছিল। তখন গণনা শেষে মোট টাকা হিসেবে উঠে আসে ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা। সেসময়ও বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা পাওয়া যায়। তখন এই অর্থ সংগ্রহ ছিল সর্বোচ্চ রেকর্ড। এছাড়াও, অনেকেই দান করেন হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলসহ অন্যান্য সম্পদ।

পাগলা মসজিদের পরিচালনা কমিটি জানায়, এই গণনায় অংশ নেন মসজিদের সংলগ্ন মাদ্রাসার ১২০ জন ছাত্র, আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ২২০ ছাত্র, ৪৫ স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ১০০ কর্মকর্তা এবং পুলিশ-প্রশাসনের প্রায় অর্ধশত সদস্য। সেই সঙ্গে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এই জমায়েতকে দেখেছে উৎসবের মতো অনুভূতিতে।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আনাস জানান, তারা সব সময় অধীর আগ্রহে থাকেন কখন দানবাক্স খোলা হবে। এই গণনায় অংশ নেওয়ায় তারা খুবই আনন্দিত। অন্য একজন, জাকারিয়া হোসাইন, জানান তিনি হোসেনপুরের সিদলা থেকে এসেছেন এই দান গণনা দেখতে। তিনি বলেন, এই জমাকারী রেকর্ড সব সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখতেন, এবার সরাসরি আসতে পেরে খুবই খুশি।

অন্যদিকে, বহু মানুষ মনে করেন, দান বা মানত করলে মনের আশা পূরণ হয়— এটাই তাদের বিশ্বাস। নারায়ণগঞ্জের নিলুফা রহমান সহ অনেকে দীর্ঘদিন ধরে এই পবিত্র মসজিদে দান করে আসছেন। তারা বলেন, এই মসজিদে আসার ইচ্ছেটা অনেকদিনের ছিল, এবার সুযোগ পেয়ে দান করেছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী জানান, দানবাক্স খোলার পুরো প্রক্রিয়া থেকে শুরু করে টাকা গোনা, সুরক্ষিতভাবে ব্যাংকে পৌঁছে দেওয়া—সব ক্ষেত্রেই পুলিশ ও সেনাবাহিনী সক্রিয় অবদান রাখে। তিনি নিজেও ছিলেন মসজিদে, কাজের নিরাপত্তার খেয়াল রাখতে।

অতিথিদের পাশাপাশি, জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান জানান, দানের অর্থ মূলত নানা ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা ও উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় করা হয়। এ অর্থ দিয়ে একটি আধুনিক ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে, যা হবে ১০ তলার বিশিষ্ট। সেখানে থাকবে অনাথ-এতিমদের জন্য পাঠশালা, ধর্মীয় শিক্ষা কেন্দ্র, মাদ্রাসা, একটি পাঠাগার, ক্যাফেটেরিয়া এবং আইটি সেকশন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানাচ্ছেন, ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠান নকশা জমা দিয়েছে। রাজশাহী প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ দল থেকে একটি প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। দ্রুত কার্যাদেশ দিয়ে কাজ শুরু হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট সবাই।

বর্তমানে, পাগলা মসজিদের আয়তন ৫.৫ একর। ভবিষ্যতে আরও কিছু স্থান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই মুহূর্তে, মসজিদের অ্যাকাউন্টে মোট দান পড়েছে ৯০ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এই অর্থ ভবিষ্যতে উন্নয়ন কাজের জন্য ব্যয় হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন