সোমবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ, ১৬ই অগ্রহায়ণ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

চলতি কর বছরে এখন পর্যন্ত ২০ লক্ষের বেশী করদাতা ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন

২০২৫-২৬ অর্থ বছর আন্তর্জাতিকভাবে অনলাইন আয়কর দাখিলের নতুন যাত্রা শুরু হয় গত ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে, যখন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ কর্তৃক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর থেকে করদাতাদের বিশাল সাড়া পড়ে গেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষেরও বেশি করদাতা তাঁদের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করেছেন, যা দেশের করসংগ্রহের এই নতুন দিকের পরিবর্তনের একটি স্পষ্ট দৃষ্টান্ত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর একটি বিশেষ আদেশে ঘোষণা করা হয়, এ বছর থেকে বয়স ৬৫ বছর বা তার বেশি, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশী, মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধিসহ কিছু নির্দিষ্ট শ্রেণির করদাতা ছাড়া অন্য সকলের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক। তবে কয়েকটি শ্রেণির করদাতা ইচ্ছা করলে এই ব্যবস্থা অনুসরণ করতে পারেন। কেউ যদি নিজে ই-রিটার্ন দাখিল করতে সমস্যায় পড়েন, তবে ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের মধ্যে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করলে অনুমোদন পেয়ে তিনি পেপাররিটার্নও দাখিল করতে পারবেন।

এছাড়া, এই বছর করদাতা তাদের পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিনিধিদেরও অনলাইনে রিটার্ন দাখিলের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদেশে থাকলেও করদাতা পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ও ইমেইল এড্রেস পাঠিয়ে অ্যাকাউন্টে রেজিস্ট্রেশন করলে দ্রুত OTP এবং লিঙ্ক পাঠের মাধ্যমে ই-রিটার্ন দাখিল করতে পারেন।

করদাতাদের সুবিধার জন্য কাগজপত্র বা দলিলাদি আপলোডের প্রয়োজন নেই। তারা শুধু নিজের আয়, ব্যয়, সম্পদ ও দায়ের তথ্য সঠিকভাবে ই-রিটার্ন ফর্মে এন্ট্রি করে, এবং অনলাইনে ব্যাংকিং বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাপের মাধ্যমে দাখিলের সময় কর পরিশোধ করতে পারেন। এরপর স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্বিদ্ধান্ত, স্বীকৃতি ও কর সনদ প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। এই সহজ প্রক্রিয়ায় দেশের বাইরে থাকলেও করদাতাদের জন্য ই-রিটার্ন দাখিল এখন বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

বিগত বছরগুলোর মতো এবারও এনবিআর করদাতাদের জন্য অনলাইন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাচ্ছে। করদাতাদের পাশাপাশি, আইনজীবী, চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস ও চার্টার্ড সেক্রেটারিজদেরও এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

যেকোনো সমস্যা বা প্রশ্ন থাকলে করদাতারা যোগাযোগ করতে পারেন বিশেষ কল সেন্টার (১০০ নম্বর ছাড়া), যেখানে দ্রুত টেলিফোনে সাহায্য ও পরামর্শ পাওয়া যাবে। এছাড়া, ই-টাইক্স সার্ভিসের মাধ্যমে অনলাইনে সমস্যা জানানো বা অনুসন্ধানের সুবিধাও রয়েছে। দেশের সব কর অফিসে ই-রিটার্ন হেল্প ডেস্ক থেকে সেবা পাওয়া সম্ভব। করদাতারা নিজের কর অঞ্চলে সরাসরি উপস্থিত হয়ে বা ফোনে এই সেবা গ্রহণ করে অনলাইন ব্যবস্থা সহজভাবে ব্যবহার করতে পারছেন।

এমতাবস্থায়, এনবিআর সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছে যে, আগামী ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ এর মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের কর রিটার্ন দাখিল সম্পন্ন করার জন্য। আপনাদের এই একুশ শতকের ডিজিটাল কর ব্যবস্থার অংশগ্রহণই হবে দেশের অর্থনীতিকে আরও সুদৃঢ় ও স্বচ্ছ করে তোলার মূল ধাপ।

পোস্টটি শেয়ার করুন