বুধবার, ৭ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেনিজুয়েলায় মাদুরোকে আটক: আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি জটিল

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করতে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো সামরিক অভিযানে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বেসামরিক নাগরিকের পাশাপাশি সেনাসদস্যও রয়েছেন বলে খবর জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস। ওই সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মার্কিন এই হামলায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, যদিও নিহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার জন্য একটি ব্যাপক lớn আকাশ অভিযান চালানো হয়, যেখানে ১৫০টির বেশি মার্কিন যুদ্ধবিমান মোতায়েন ছিল। এর ফলে সামরিক হেলিকপ্টারগুলো নিরাপদে সেনাদের নেমে আসার জন্য সক্ষম হয়। এরপর তারা মাদুরোর অবস্থান লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। এখনো এই অভিযানের বিস্তারিত তথ্য বা হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে কোনও সরকারি বিবৃতি পাওয়া যায়নি। খবর অনুযায়ী, গত শনিবার ভোরের সময় মার্কিন সেনারা ভেনিজুয়ার প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর ওপর আক্রমণ করে, তাদের দেশ থেকে বাইরে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিযানাকে ‘শক্তিশালী চমকপ্রদ প্রদর্শনী’ হিসেবে শ্রোতা করেন এবং বলেন, যতক্ষণ না নিরাপদ, সঠিক ও বিচক্ষণ রাজনৈতিক পরিবর্তন নিশ্চিত হবে, ততক্ষণ যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলা পরিচালনা করবে। এদিকে, নিউইয়র্কের ফেডারেল কোর্টরো পক্ষ থেকে একটি অভিযোগপত্র প্রকাশ করা হয়েছে, যেখানে মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে কোকেন পাচারের অভিযোগসহ একাধিক অপরাধের উল্লেখ রয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই অভিযান ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ছে; বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তারা জানান, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই এই অভিযান চালানো হয়েছে, যা লাতিন আমেরিকার শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য বিপজ্জনক। অন্যদিকে, চীন মার্কিন এই হস্তক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর জোরপূর্বক আটক ও বিদেশে প্রতিপন্নের ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক আইনের ক্ষুদ্র লঙ্ঘন’ মনে করে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জানায়, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এটি আন্তর্জাতিক সম্পর্কের মৌলিক নীতি ও জাতিসংঘের উদ্দেশ্য বিরোধী। চীন যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়ে বলেছে, মাদুরো ও তার স্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করতে; পাশাপাশি, সব বিষয় আলোচনা ও সংলাপের মধ্য দিয়ে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীর আটক হওয়ার পর, ভেনিজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে দেশের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যা আদালত জানিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দেশটি এখনো সচল থাকবে ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম চালু থাকবে বলে ধারণা। গত রোববার, বিবিসির খবর অনুযায়ী, এটি নিশ্চিত হয়েছে যে, প্রেসিডেন্ট মাদুরোর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট রদ্রিগেজকে সাময়িকভাবে দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ডেলসি রদ্রিগেজের মাধ্যমে জাতীয় প্রশাসন চালাচ্ছেন এবং আমেরিকা চাইলে সরাসরি সেনা পাঠানো এড়ানো সম্ভব। তিনি আরও জানালেন, ডেলসি রদ্রিগেজ ইতোমধ্যে শপথ নিয়েছেন ও মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে, যে কোন মুহূর্তে ভেনিজুয়েলার ক্ষমতা কাকে দেওয়া হবে, সেই সিদ্ধান্তে ঝুলে রয়েছে। ট্রাম্পের ভাষ্যে, যদি ডেলসি রদ্রিগেজ মার্কিন পছন্দ অনুযায়ী পদক্ষেপ নেন, তাহলে সরাসরি মার্কিন সেনার উপস্থিতি প্রয়োজন হবে না। আজকের পরিস্থিতিতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপের পর বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে—তাদের মধ্যে অন্যতম হলো, কিভাবে ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উন্নত ও স্থিতিশীল হবে এই পরিস্থিতিতে, সেই দিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নজর দিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন