সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ইরানের পক্ষ থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দেওয়া হুমকি কড়া ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, ইরান শত্রুদের কাছে মাথা নত করবে না, বরং শত্রুরা ঘৃণার আগুনে পুড়ে যত দ্রুত সম্ভব ইরানের সম্মুখে হাঁটু গেড়ে বসতে বাধ্য হবে।
এই মন্তব্য করেছে এই দুই নেতা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে। খামেনি জানিয়েছেন, দেশের অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও চলমান বিক্ষোভের জন্য বিদেশি হস্তক্ষেপকেই দায়ী করা হচ্ছে। দেশের অর্থনীতিতে মুদ্রার বিপর্যয়, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে তিনি আশ্বাস দেন, সরকারের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর পরিশ্রম করছে। খামেনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু সহিংসতা একেবারেই বরদাস্ত করা হবে না।
তিনি দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সংলাপে বসেন। পাশাপাশি, দাঙ্গাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে তিনি মনে করেন। যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে, তাদের সঠিক পথে ফেরানোর জন্যও নির্দেশ দিয়েছেন।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই হুমকি ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির কাছে খুব একটা ভালোভাবে গ্রহণ হয়নি। তিনি ট্রাম্পের এ ধরনের মানসিকতা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। আরাঘচি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকি ও বক্তব্য সরাসরি অঞ্চলে অস্থিরতা বাড়াচ্ছে এবং এটি বিদেশি হস্তক্ষেপের শামিল। তিনি আরও বলেন, ইরান দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং দেশের সম্পদ ও জনগণের নিরাপত্তায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।
প্রসঙ্গত, ইরানে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভ ষষ্ঠ দিনেও চলমান রয়েছে। এখন পর্যন্ত এই অস্থিরতায় ৯ জন নিহত হয়েছেন, এবং ৪৪ জনকে সংশ্লিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।





