ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও তুলে নেওয়ার ঘটনা নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে সোমবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ একটি জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, কলম্বিয়ার অনুরোধে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে যেখানে রাশিয়া ও চীন এর পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে। এই ১৫ সদস্যবিশিষ্ট পরিষদের আলোচনায় বর্তমান সংকটের বিভিন্ন দিক বিস্তারিত উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের জন্য বিপজ্জনক এক দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করে বলেন, কোনও সার্বভৌম রাষ্ট্রের ভেতরে এ ধরনের হস্তক্ষেপ জাতিসংঘের নিরাপত্তা শৃঙ্খলার মূলনীতির পরিপন্থী এবং এতে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এর আগে, অক্টোবর ও ডিসেম্বর মাসে ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ দুটি বৈঠক করলেও, সাম্প্রতিক এই অভিযানের ফলে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অবস্থান প্রসঙ্গেআরও বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় যথাযথ ও সুশৃঙ্খল উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটন দেশটির প্রশাসন পরিচালনা করবে। তবে এই প্রক্রিয়ার বিস্তারিত পদ্ধতি বা কাঠামো সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশিত হয়নি। এই পদক্ষেপকে ‘ঔপনিবেশিক অভিযান’ বলে অভিহীত করে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রদূত স্যামুয়েল মোনকাদা একটি প্রতিবাদলিপি জমা দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, এটি একটি গভীর ষড়যন্ত্র করে ভেনেজুয়েলার জনগণের নির্বাচিত সরকারকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা।
অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ এই অভিযানের পক্ষে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দাবি করেছেন, এটি শাসন পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একটি উদ্যোগ। তিনি মাদুরোকে অবৈধ স্বৈরাচার ও মাদক-সন্ত্রাসী সংগঠনের নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছেন, তাঁর কর্মকাণ্ডের কারণেই মার্কিন নাগরিকদের প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে, সোমবারের বৈঠক ঘিরে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন এবং মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের বৈধতা নিয়ে বিশ্বশক্তিগুলোর মধ্যে তীব্র বিতর্কের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।





