শুক্রবার, ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ড্যানিস প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি: যদি আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র গ্রিনল্যান্ড দখল, তবে ‘ন্যাটোর অস্তিত্ব থাকবে না’

ভেনিজুয়েলার পর এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নজর উঠেছে গ্রিনল্যান্ডের দিকে। এরই মধ্যে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপটি দখলের চেষ্টা করে, তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ন্যাটোর অস্তিত্ব আর থাকবে না। এই মন্তব্যটি সম্প্রতি স্পষ্ট হয়েছে, যখন ট্রাম্প পুনরায় ঘোষণা করেন যে, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পরিকল্পনা করছেন। বাবার দেশের ভূগোল, খনিজসম্পদ এবং কৌশলগত অবস্থান বিবেচনা করে ট্রাম্প আগেও বারবার দ্বীপটিকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনার কথা বলছিলেন। গত রোববার (৪ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, “আগামী ২০ দিনের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ে আলোচনা শুরু হবে।” তিনি আরও বলেছিলেন, “আমাদের জন্য বাংলাদেশের মতো এই দ্বীপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এর প্রয়োজন রয়েছে, খনিজসম্পদের জন্য নয়।” এই হুমকি ও আলোচনা নিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, “যদি যুক্তরাষ্ট্র ন্যাটোর কোনো সদস্য দেশের ওপর সামরিক আঘাত চালায়, তাহলে সবকিছু শেষ হয়ে যাবে। অর্থাৎ, ন্যাটো এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমরা পেয়েছি, তার কিছুই থাকবে না।” গ্রিনল্যান্ডের এই বিশাল আর্কটিক দ্বীপটি উত্তর-পূর্ব দিকের প্রায় ৩২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, যেখানে বিরল খনিজসম্ভার রয়েছে, যা স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক যান এবং সামরিক সরঞ্জাম তৈরিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি, এটি উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থান, যা আর্কটিক প্রবেশাধিকার সহজ করে দেয়। আগামী বছরগুলোতে মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে থাকায় নতুন নৌপথের সম্ভাবনাও উঁকি দিচ্ছে। তবে এই প্রস্তাবের প্রতি গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স ফ্রেডরিক নিলসেন ‘কল্পনা’ বলে মন্তব্য করে বলেছেন, ‘আর কোনো চাপ বা ইঙ্গিত নয়। আমাদের সঙ্গে আলোচনা খোলামেলা এবং আন্তর্জাতিক আইনের ঊর্ধ্বে থাকবে না। তবে সব কিছু সঠিক প্রক্রিয়ায় ও সম্মানজনকভাবে হতে হবে।’ উল্লেখ্য, ডেনমার্কের অংশ হিসেবে এই দ্বীপে প্রায় ৫৭ হাজার মানুষ বসবাস করে। ১৯৭৯ সাল থেকে তারা স্বায়ত্তশাসন পেয়েছে, কিন্তু দেশের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি এখনও ডেনমার্কের নিয়ন্ত্রণে। ভবিষ্যতে অধিকাংশ নাগরিক স্বাধীনতার পক্ষে থাকলেও জনমত জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগদানের ব্যাপারে বেশির ভাগের বিরোধিতা রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন