ভেনিজুয়েলাকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া হলে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ক্ষতিগ্রস্ত হবে—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। তিনি মঙ্গলবার এক ফোনালাপে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এই বিষয়ে সাবধান করে বলেছেন। এরদোয়ান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে কোনো দেশ যদি রাজনৈতিক বা সামরিক সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেটি বিশ্বজুড়ে গুরুতর জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। আমরা এমন কোনো পদক্ষেপের পক্ষে নই যা অন্য দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকি দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি ট্রাম্পের সাথে সরাসরি ফোনে বলেছি, ভেনিজুয়েলাকে যেন অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দেওয়া না হয়।’ সরাসরি কারো নাম উল্লেখ না করলেও, তিনি মাদুরো সরকারকে লক্ষ্য করে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা কষ্টদায়ক ও দুঃখজনক।’ এরদোয়ান বলছেন, ‘ভেনিজুয়েলা সংকটে আমাদের মূল লক্ষ্য একটাই—প্রচেষ্টা করি, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার। আমাদের এ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে দুই দেশের জনগণের মধ্যে গভীর বন্ধুত্বের ভিত্তিতে।’ তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ‘তুরস্ক ভেনিজুয়েলার পাশে থাকবে এবং দেশের স্বার্থ রক্ষা করতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’ গত নভেম্বরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মাদুরোকে তুরস্কে নির্বাসনে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদে প্রকাশ হয়েছে। এ ব্যাপারে গত সোমবার একটি সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্পের উপস্থিতিতে মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এই তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন। বিবর্তনমূলক সম্পর্কের ইতিহাসে, ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের পরে মাদুরো নিজে এরদোয়ানকে ফোন করে সমর্থন জানিয়েছিলেন। তবে এই সপ্তাহে তুরস্কের জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময়, ভেনিজুয়েলার পরিস্থিতির সমর্থনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি দিয়ে বলেছে যে, তারা ভেনিজুয়েলার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চান। অন্যদিকে, নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভেনিজুয়েলায় মার্কিন হামলায় এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৮০ জন নিহত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে। শনিবার ভোরে মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একসাথে মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলো দেশের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কেন্দ্রগুলোতে আক্রমণ চালায়। ভেনিজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ বলেন, ‘মাদুরোকে যুক্তরাষ্ট্রের তুলে নেওয়া এই ঘটনায় ইহুদিবাদী প্রভাব রয়েছে বলে আমি মনে করি।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের সরকার এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন।’ এটি হলো একটি রূপক প্রকাশ, যেখানে কিছু বিশ্লেষক বলছেন, এই ঘটনার পেছনে জায়নবাদী শক্তির প্রভাব রয়েছে।





