শুক্রবার, ৯ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৫শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৬ বছর আগে ‘জ্যাক রায়ান’ সিরিজে ভবিষ্যৎ ভেনেজুয়েলার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল

কখনো কখনো পর্দার কাল্পনিক কাহিনী বাস্তব জীবনের ঘটনাপ্রবাহকে এতটাই নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে যে তা বাস্তবতার রঙে রঙিন হয়ে যায়। এর অন্যতম উদাহরণ হচ্ছে জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজ ‘জ্যাক রায়ান’। ২০১৯ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওতে মুক্তি পাওয়া এই স্পাই থ্রিলার সিরিজের দ্বিতীয় সিজনের এক বিশেষ দৃশ্য সম্প্রতি বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে, ছয় বছর আগে সিরিজের একটি সংলাপের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নাকি পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। বর্তমানে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে এসে এই ভবিষ্যৎ সত্যি হয়ে ওঠায় নেটিজেনদের মধ্যে ব্যাপক বিস্ময় ও তোলপাড় শুরু হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

সিরিজের সেই চর্চিত দৃশ্যে দেখা যায়, জন ক্রাসিনস্কি অভিনীত ‘জ্যাক রায়ান’ একজন সিআইএ কর্মকর্তার ভূমিকায় রয়েছেন। তিনি একটি বৈঠকে অংশ নিয়ে বলেন, বর্তমান বিশ্বে দেশের নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি কোনটি হতে পারে। কর্মকর্তারা রাশিয়া ও চীনের নাম বললেও, জ্যাক রায়ান ভিন্ন পথে হাঁটে এবং ভেনেজুয়েলাকে গুরুত্ব দেয়। তিনি উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা প্রাচুর্যশালী তেল, স্বর্ণ ও খনিজ সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতার কারণে এক সময় ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট দেশটি সরাসরি মার্কিন নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে বলে তিনি সতর্ক করেন। ছয় বছর আগের এই কাল্পনিক আশঙ্কা এখন বাস্তব রূপ পাওয়ায় সিরিজের জনপ্রিয়তা ও প্রাসঙ্গিকতা আরও বেড়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তব ঘটনাবলি যদি বিশ্লেষণ করা হয়, তাহলে দেখা যাবে, ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে ভেনেজুয়েলায় এক ঝটিকা সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। এর মাধ্যমে দেশটির দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে দেশটিকে মার্কিন শাসনের আওতায় আনা হয়। এই অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ট্রাম্পের বার্তা—‘এখন থেকে আমেরিকা ভেনেজুয়েলাকে নিয়ন্ত্রণ করবে’—বিশ্বের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই ঘটনা সিরিজের কাল্পনিক চিত্রনাট্যের সঙ্গে এক অনূ Rodrigo কর সম্পর্ক তৈরি করে, যেন এটি বাস্তবের প্রতিচ্ছবি। ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকগণ এই অদ্ভুত মিল দেখে বিস্মিত না থাকলেও, তারা এটি গভীরভাবে বিশ্লেষণ করতে শুরু করেছেন।

সিরিজের নির্মাতারা যেমন বলেছেন, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সমসাময়িক রাজনৈতিক থ্রিলার তৈরি করা, যাতে বর্তমান পরিস্থিতির প্রাসঙ্গিকতা দেখা যায়। তারা আরও জানিয়েছেন, তারা ভবিষ্যৎবাণী করেননি, বরং তৎকালীন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে সম্ভাব্য সংকটগুলোর ছবিপ্রদর্শন করার চেষ্টা করেছেন। তবে কিউস স্বীকার করেছেন যে, অনেক সময় বাস্তব রাজনীতি কল্পনাকে ছাপিয়ে যায়, যার প্রমাণ ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি। এই সিরিজের গোয়েন্দা চরিত্রের দূরদৃষ্টির দর্শন এখন যতটা কল্পনাপ্রসূত ছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি সত্য হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘জ্যাক রায়ান’ সিরিজের দর্শকদের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে ভেনেজুয়েলা কেন্দ্রিক দ্বিতীয় সিজনটি এখন বিশ্বজুড়ে ট্রেন্ডিংয়ে রয়েছে। দর্শক ও সমালোচকরা বলছেন, শিল্পের অনেক সময় ভবিষ্যতের বার্তা বহন করে, আর এই সিরিজটি তারই প্রমাণ। এক সময়ের বিনোদনের এই জনপ্রিয় কাজ এখন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের জন্য গভীর আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, এই সিরিজের মাধ্যমে পর্দার জ্যাক রায়ানের দেয়া বার্তা ও হোয়াইট হাউসের বর্তমান পদক্ষেপের মধ্যে এক অনবদ্য মিল ঘটেছে, যা ২০২৬ সালের বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ঘটনায় রূপ নিয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন