ভারতের রাজধানী দিল্লির আদালতের নির্দেশনা অমান্য করে পৌর কর্তৃপক্ষ বুধবার (৭ জানুয়ারি) তুর্কমান গেট এলাকার ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদের পাশের একখন্ড জমিতে অবৈধ দখলের অভিযোগে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। ভোরের সময় এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়, কিন্তু তখন মসজিদ কমিটি এই উচ্ছেদের প্রতিবাদ জানালে পুলিশ ও তাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই বিষয়টি গত মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্টে ওঠে, যেখানে আদালত আগামী ২২ এপ্রিল জমির বিরোধসংক্রান্ত মামলার শুনানি নির্ধারণ করেছিলেন। তবে কর্তৃপক্ষ এই নির্দেশনা অমান্য করে, কোনো আদালত নির্দেশ না মেনে, দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান চালায়।
পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উচ্ছেদ কার্যক্রমের আগে তারা স্থানীয় আমান কমিটির সদস্য এবং অন্য অংশীদারদের সঙ্গে বেশ কয়েক দফা বৈঠক করেছেন। এই বৈঠকগুলির মূল লক্ষ্য ছিল, উচ্ছেদের সময় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং যে কোনও অপ্রিয় পরিস্থিতি এড়ানো। সব ধরনের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও তারা আশ্বাস দিয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, উচ্ছেদের সময় কয়েকটি পাথর ছোড়ার মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে পুলিশ সীমিত শক্তি দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অপরদিকে, পুলিশের সেন্ট্রাল রেঞ্জের যুগ্ম কমিশনার মধুর ভার্মা জানান, ‘দিল্লি পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং আদালতের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করবো।’
উচ্ছেদের জন্য সরকারের বিপুলসংখ্যক ১৭টি বুলডোজার ব্যবহার করা হয়।
প্রসঙ্গত, দিল্লি হাইকোর্ট গত মঙ্গলবার একটি নোটিশ জারি করে, যেখানে বলা হয়েছিল যে, তুর্কমান গেট এলাকায় ফৌজ-ই-এলাহি মসজিদ ও সংশ্লিষ্ট কবরস্থানের পাশের জমিতে থাকা স্থাপনাগুলোর অবৈধ দখল রয়েছে। আদালত এই অবৈধ স্থাপনা গুলো সরানোর নির্দেশ দেয় এবং সেইসাথে দিল্লি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে বলে।
এই নির্দেশের বিরুদ্ধে মসজিদ পরিচালনা কমিটি দিল্লি হাইকোর্টে একটি পিটিশন দায়ের করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে, বিচারপতি অমিত বংসাল দিল্লি পৌর, উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ওয়াক্ফ বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট একাধিক দপ্তরকে নোটিশ পাঠান, যাতে তারা এই বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নিতে বলেন। আদালত আরো বলেন, ‘এটি বিস্তারিত বিবেচনার দাবী রাখে’। নোটিশে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে চার সপ্তাহের মধ্যে পিটিশনের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর, দিল্লি পৌর কর্তৃপক্ষ একটি আদেশ দেয়, যেখানে বলা হয়, শূন্য দশমিক ১৯৫ একর জমির ওপর অবস্থিত সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে হবে। অভিযোগ করা হয়, মসজিদ কমিটি বা ওয়াক্ফ বোর্ড এই জমির বৈধ কোনও দলিল প্রমাণ করতে পারেনি। এই মূল জমির ওপর মসজিদের স্থাপনাগুলি অবস্থিত।





