যুদ্ধের পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও ব্রিটেন সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তটি প্রকাশিত হয় প্যারিসে অনুষ্ঠিত কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং নামক বৈঠকে, যেখানে বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। সেখানে আরও জানানো হয়, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে ইউক্রেনের সুরক্ষার জন্য তারা সেনা পাঠানোর পরিকল্পনা করছে। এ বিষয়ে জেলেনস্কি নিজেও একথা জানান, তিনি জানান that জল, আকাশ ও স্থল নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো এই ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আলোচনায় অংশ নেওয়া অন্য দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরাই বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছেন। স্টিভ উইটকভ ও জ্যারেড কুশনার জানান, নিরাপত্তা ইস্যুতে ব্যাপক অগ্রগতি হলেও কিছু জটিল বিষয়— যেমন ভূমি ভাগাভাগি— এখনও সমাধানের অপেক্ষায় আছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এগুলো অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সমাপ্তি পথে যাবে।
একইসঙ্গে, ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলাকালীন রাশিয়া ও ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা চালাচ্ছে। গত মঙ্গলবার, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তর জানিয়েছে, তারা ইউক্রেনের ৩শ ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দুইটি হিমার্স রকেট ধ্বংস করেছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের সেনাবাহিনী কোস্ট্রেমা অঞ্চলে একটি রুশ সামরিক অস্ত্রাগারে সফলভাবে আঘাত হেনেছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার গুলো একত্র হয়ে ঘোষণা দিয়েছেন, তারা কিয়েভের সুরক্ষায় সেনা পাঠানোর জন্য প্রস্তুত। ম্যাক্রোঁ বললেন, আমরা চাই না এমন কোনো শান্তি চুক্তি হোক যা কিয়েভের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর সঙ্গে এই মূল্যবান সমঝোতা রয়েছে।
অন্যদিকে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের দীর্ঘস্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা। এজন্য আমরা তিন ধাপের পরিকল্পনা অনুসরণ করছি— প্রথমে যুদ্ধ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দ্বিতীয়ত, শান্তি বাহিনী পাঠানো, এবং তৃতীয়ত, রুশ আক্রমণের বিরুদ্ধে একসঙ্গে লড়াই করে কিয়েভের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।’
এছাড়াও, জেলেনস্কি বলেন, এই ঘোষণাপত্রে ইউক্রেনের জল, আকাশ ও স্থল নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট সাক্ষরে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করেন স্টিভ উইটকভ ও জ্যারেড কুশনার, যারা জানিয়েছেন যে, আলোচনা কার্যক্রম অগ্রগতি লাভ করছে। তারা বলেন, নিরাপত্তা ও এই পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছে। স্টিভ উইটকভ আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভূমি বিভাজনসহ জটিল বিষয়গুলো অচিরেই সমাধান হবে।
এবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, পোল্যান্ড, ইতালি ও আরও প্রায় ৩৫টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন। তবে বলা যায়, ফ্রান্স ও ব্রিটেনের বাইরে অন্য কোনও দেশ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে সামরিক পাঠের অঙ্গীকার করেনি।





