শনিবার, ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এলপিজি আমদানিতে ভ্যাট ১০%, ধর্মঘট প্রত্যাহার

রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে তা আমদানিতে ভ্যাটের হার ১০ শতাংশ নির্ধারণের পাশাপাশি স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে থাকা ভ্যাট ও ট্যাক্সের অব্যাহতি সুপারিশ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এই সিদ্ধান্তের ফলে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড দেশজুড়ে এলপিজির সরবরাহ ও বিপণনে চলমান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছে।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ এই সুপারিশের জন্য চিঠি পাঠিয়েছে, যেখানে তারা উল্লেখ করেছে যে শীত মৌসুমে বাড়তি চাহিদা ও সরবরাহ সংকটে সাধারণ ভোক্তাদের স্বস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এর ফলে, গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) থেকে এলপি গ্যাসের বাজারে অবস্থিত ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ দিন ধরে চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কার্যালয়ে এক বৈঠক শেষে সংগঠনের সভাপতি মো. সেলিম খান সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা তিনটি মূল দাবি তুলে ধরে: প্রশাসনিক অভিযান বন্ধ, বিতরণকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের চার্জ বাড়ানো এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখা।

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, তারা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে এবং চার্জ বৃদ্ধির প্রক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেবেন। একইসাথে, তিনি আশ্বস্ত করেন যে, জাহাজ সংকটজনিত অস্থিতিশীলতার মাঝেও বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, ফলে পরবর্তী সপ্তাহে সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হবে।

অন্যদিকে, সংগঠনের সভাপতি সেলিম খান জানান, তারা এখনো বিক্রেতাদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতে ১,৩০০ টাকা বেশি পরিশোধ করতে হচ্ছে, ফলে একটি ১২ কেজির সিলিন্ডার দামে দেড় হাজার টাকার নিচে বিক্রি সম্ভব নয়।

বিইআরসি থেকে জানা যায়, জানুয়ারি মাসে নির্ধারিত মূল্য ১,৩০৬ টাকার বেশি বিক্রি নিয়ে তাদের কোনো যুক্তিই নেই।

এর আগে, ডিসেম্বরের শেষের দিকে উপদেষ্টা পরিষদে এলপি গ্যাসের আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহতি প্রত্যাহার করে ১০ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সুপারিশ করা হয়েছিল। পাশাপাশি, স্থানীয় উৎপাদনে ৭.৫ শতাংশ ভ্যাট, ব্যবসায়ীদের জন্য ভ্যাট ও আগাম করের অব্যাহতির বিষয়গুলো আলোচনা হয়। তবে, লোয়াাব সদস্যরা আমদানি পর্যায়ে প্রস্তাবিত ১০ শতাংশের পরিবর্তে শূন্য শতাংশ ভ্যাটের দাবি জানিয়েছেন।

চিঠিতে জানানো হয়, বর্তমানে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আমদানিতে ভ্যাটের হার ১০ শতাংশের নিচে নির্ধারণ, এবং স্থানীয় উৎপাদন ও ব্যবসায়ীদের ভ্যাটসহ অন্যান্য করের অব্যাহতি দরকার। এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়নের আগে ভোক্তার জন্য সম্ভাব্য দাম কমানোর উপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ চালানোর জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন