শনিবার, ১০ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৬শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিলবাওকে ৫-০ গোলে হারিয়ে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনা

সৌদি আরবের মাটিতে চলমান স্প্যানিশ সুপার কাপের প্রথম সেমিফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে প্রমাত্র ৫-০ গোলে পরাভূত করে ফাইনালে পৌঁছেছে বার্সেলোনা। কোচ হানসি ফ্লিকের অধীনে দলটি এখন এরই মধ্যে অসাধারণ সফলতা দেখিয়েছে; সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৮ ম্যাচে জয়লাভের এই ধারাবাহিকতা তাদের মনোবল আরও দৃঢ় করেছে। অন্যদিকে, সাবেক বার্সেলোনা কোচ এর্নেস্তো ভালভের্দের নেতৃত্বে বিলবাও বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে এবং চ্যাম্পিয়নস লিগ থেকে বাদ পড়ার শঙ্কায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বার্সেলোনার জয় ছিল খুবই প্রত্যাশিত। তবে প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটের মধ্যে চারটি গোলের ঝলক দেখিয়ে দলটি দর্শকদের এক অনন্য ফুটবল দৃশ্য উপহার দেয়। এই বিধ্বংসী আক্রমণে বিলবাওয়ের রক্ষণভাগের অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ে এবং প্রথমার্ধেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ম্যাচের ২২ থেকে ৩৮ মিনিটের মধ্যে চারটি গোল করে প্রথমার্ধেই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারিত করে ফেলে কাতালানরা।

এদিনের ম্যাচের সবচেয়ে বড় চমক ছিল তরুণ তারকা রুনি বার্দাগি। দলের নিয়মিত তারকা ও বিস্ময় বালক লামিন ইয়ামালকে বেঞ্চে রেখে খেলতে নেমে তিনি নিজেকে প্রমাণ করে দেন। তিনি একটি গোলের পাশাপাশি রাফিনিয়ার দুইটি গোলেও সহায়তা করে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হিসেবে উত্থিত হন। ২২তম মিনিটে রুনির আক্রমণ থেকে বল পেয়ে ফেরমিন লোপেজ ফ্রেররান তরেসের সাথে বল বিনিময় করে প্রথম গোল করেন। ৩৩ মিনিটে তিনি একক দক্ষতায় দ্বিগুণ ব্যবধান সৃষ্টি করেন এবং ৩৮ মিনিটে রাফিনিয়ার মাধ্যমে তৃতীয় গোল করেন। বিরতির পরও দলটি ধারাবাহিকতা বজায় রাখে এবং ৫১ মিনিটে রাফিনিয়া নিজের দ্বিতীয় এবং দলের পঞ্চম গোল করে বিলবাওয়ের দখল থেকে ম্যাচটি নিশ্চিত করে।

অপ্রতিরোধ্য এই জয়ের পর বার্সেলোনা এখন ফাইনালের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেখার পরের ধাপে তাদের প্রতিপক্ষ কে হবেন তা আজ রাতের দ্বিতীয় সেমিফাইনাল শেষে জানা যাবে, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ ও আতলেতিকো মাদ্রিদ মুখোমুখি হবে। এই দুই দলের বিজয়ে হলে, আগামী ১২ জানুয়ারি সৌদি আরবের মাটিতে ফাইনালে লড়বে বার্সেলোনা। ফুটবলবিশ্লেষকরা বর্তমানে বার্সেলোনার দারুণ ফর্ম দেখে মনে করছেন, তারা শিরোপা জয়ের সবচেয়ে এগিয়ে। ইয়ামালের অনুপস্থিতিতেও দলের এই দাপুটে পারফরম্যান্স তাদের বেঞ্চের শক্তিরই প্রমাণ। ফুটবল বিশ্ব এখন এক আকাঙ্ক্ষার অপেক্ষায়, সেটি হল এক সুন্দর এল-ক্ল্যাসিকো ফাইনালের জন্য।

পোস্টটি শেয়ার করুন