মঙ্গলবার, ১৩ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে পৌষ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অটোগ্যাসের জন্য এলপিজি বরাদ্দের দাবি বিশ্বস্ততা ও বিকল্প জ্বালানির জন্য জরুরি সচেতনতা

দেশের দিনে দিনে অতিরিক্ত জ্বালানি সংকট càng গভীর হচ্ছে। এলপিজি অটোগ্যাসের চরম সংকটের কারণে অধিকাংশ গ্যাস স্টেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছেন, যার ফলে পরিবহণ খাতে ভয়াবহ দুর্ভোগ শুরু হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় দেড় লাখ যানবাহনের মালিক ও চালক জ্বালানি না পেয়ে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে আজ শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ এলপিজি অটোগ্যাস স্টেশন ও কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করে। তারা দাবী করেছেন, দেশে ব্যবহৃত মোট এলপিজির কমপক্ষে ১০ শতাংশ বা ১৫ হাজার মেট্রিক টনের সরবরাহ খুব দ্রুত অটোগ্যাস স্টেশনগুলোতে নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় পরিবেশবান্ধব ও অর্থনীতি উপযোগী এই বিকল্প জ্বালানি শিল্পটি ধ্বংসের মুখে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে মালিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, বর্তমানে গ্যাস সংগ্রহের জন্য চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা একস্থানে থেকে অন্যস্থানে ঘুরতে হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং অনেক যানবাহন রাস্তায় নামানো সম্ভব হচ্ছে না। অ্যাসোসিয়েশনের warns করেছে, যদি অবিলম্বে এই পরিস্থিতি সমাধান না করা হয়, তাহলে অনেক মালিক এলপিজি কিট খুলে অন্য জ্বালানিতে ফিরে যাবেন, যা শুধু পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর নয়, সঙ্গে সঙ্গে এই শিল্পের বহু প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কর্মরত স্টেশন মালিক ও কর্মচারীরাও এই সংকটের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে কর্মহীন হয়ে পড়ছেন। এই সব সংকট নিরসনে তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরী কমিশনের (বিইআরসি) হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

অ্যাসোসিয়েশন সরকারের কাছে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানানো হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো—আন্তর্জাতিক মানানসই ও পর্যাপ্ত এলপিজি আমদানির ব্যবস্থা করা, যারা সরবরাহ কমিয়ে পরিস্থিতি জটিল করে তুলছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, পাশাপাশি এলপিজি সিলিন্ডার ও অটোগ্যাস স্টেশনের মধ্যে সুন্দর সমন্বয় ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে তারা অবিলম্বে এলপিজি বিক্রির জন্য নির্ধারিত মূল্যের বাইরে অতিরিক্ত charge নেওয়া অসাধু ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তদারকি ও শাস্তির দাবি করেছেন।

বিজনেস সংশ্লিষ্টরা বর্তমানে আমদানিকারক কোম্পানিগুলোর কার্যক্রমের উপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি, নতুন করে এলপিজি আমদানির আগ্রহীদের দ্রুত অনুমোদনের আহ্বান জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, এই সংকটময় সময়ে অটোগ্যাস স্টেশন মালিকদের জন্য সরকারের নীতিগত সুরক্ষা ও বিশেষ সহায়তা খুবই জরুরি, নইলে এই বড় বিনিয়োগটি মুখ থুবড়ে পড়বে। মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কমানোর জন্য এই কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, সরকার ও বিইআরসি এই যৌক্তিক দাবির প্রতি কেমন কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পোস্টটি শেয়ার করুন