বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঢাকা-করাচি সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু, যাত্রীরা থাকবেন সাশ্রয়ী

এক দশকের বেশি সময় পরে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ঢাকা-করাচি রুটে আবারও সরাসরি ফ্লাইট চালু করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। এর ফলে যাত্রীর জন্য সময়ের পাশাপাশি ভাড়া খুবই উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা বর্তমানের তুলনায় সর্বোচ্চ ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় করবে। বিমানের তরফ থেকে এই রুটে একমুখী টিকিটের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার ৮৯৯ টাকা, আর রাউন্ড ট্রিপের টিকিটের মূল্য শুরু হবে প্রায় ৫৬ হাজার ৯০৩ টাকা থেকে। এই দামে ভ্রমণকারীরা পারি দেবেন সুবিধাজনক ও আরামদায়কভাবে, তার সাথে উল্লেখ্য যে, এটি এখনকার ট্রানজিট খরচের তুলনায় বড় ধরনের সাশ্রয়।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন হাবের মাধ্যমে ইকোনমি ক্লাসে ফিরে আসা ফিরতি টিকিটের দাম পড়ছে ৮৮ হাজার থেকে ১২ লাখ টাকাযুক্ত। বিদেশি এয়ারলাইন্সের নির্ভরতা, আসন সংকট এবং অন্যান্য জটিলতার জন্য ভাড়া অনেক বেড়েছে। ইনোগ্লোব ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলের সিইও ও ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের (টোয়াব) পরিচালক মো. তসলিম আমিন জানিয়েছেন, পাকিস্তানে সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে যাত্রীরা দুবাই, দোহা বা শারজার মতো শহর হয়ে ট্রানজিট করে আসছিলেন। এর ফলে সময় ও অর্থের ক্ষতি হচ্ছে, খুব অনুকূল সময়ে যাত্রা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি বললেন, ‘সাধারণত ঢাকা থেকে করাচি সরাসরি ফ্লাইটে সময় লাগে ৪ থেকে ৪.৫ ঘণ্টা। কিন্তু বর্তমানে গড়ে ৮.৫ ঘণ্টা থেকে ১৩ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে, কখনও কখনও ট্রানজিটের কারণে ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় অনিবার্য।’

ট্রাভেল এজেন্টরা মনে করছেন, যখন বিমান কোম্পানিগুলোর সরাসরি সেবা চালু হবে এবং অন্যান্য এয়ারলাইনগুলোও এই রুটে ফ্লাইট পরিচালনা বাড়াবে, তখন বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং ভাড়ার স্তর নিয়ন্ত্রণে আসবে। বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঢাকা-করাচি রুটটি এখন এক ধরনের ‘কৌশলগত পর্যবেক্ষণ’ হিসেবে পরিচালিত হবে। প্রথমে ট্রায়াল হিসেবে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এই সার্ভিস চালানো হবে।

বিমানের বিপণন ও বিক্রয় বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আশরাফুল আলম বলেন, ‘প্রথম ফ্লাইটের ৮০ শতাংশের বেশি টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে এবং শুরুতেই ভালো সাড়া পেয়েছি।’ পরীক্ষামূলক দুই মাসের সময়ের মধ্যে যাত্রীর চাহিদা, লোড ফ্যাক্টর ও অন্যান্য অর্থনৈতিক দিক মূল্যায়ন করে দেখা হবে। সেই অনুযায়ী রুটটি স্থায়ী করা হবে বা না, ও ফ্লাইটের সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

১৯৯০ এর দশকে এই রুটে ফ্লাইট চালু হয়েছিল, কিন্তু ২০১২ সালে যাত্রী সংকট ও লোকসানের কারণে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন ফের এ রুটের ফ্লাইট শুরু হওয়াতে আবারো অনেক সুবিধা হবে বলে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা।

প্রাথমিকভাবে সপ্তাহে দুদিন— বৃহস্পতিবার ও শনিবার— এই ফ্লাইট চলবে। ঢাকা থেকে রাত ৮টায় (বাংলাদেশ সময়) ছেড়ে, রাত ১১টায় করাচি পৌঁছাবে। করাচি থেকে রাত ১২টায় ছেড়ে, ভোর ৪টা ২০ মিনিটে ঢাকায় ফিরে আসবে। সময়সূচি এমনভাবে নির্ধারিত, যাতে ট্রানজিট সমস্যা ছাড়াই যাত্রীরা দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।

বিমান সংস্থার জনসংযোগ বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার বুশরা ইসলাম বলেছে, ‘যাত্রী সুবিধা বিবেচনায় এই সময়সূচি নেওয়া হয়েছে। এই সরাসরি সংযোগের ফলে পর্যটন ও ব্যবসায় নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।’

উল্লেখ্য, এই রুটের ফের চালু হওয়া দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক সম্পর্কেও ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। এটি চামড়া রপ্তানি, কৃষি বাণিজ্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবারের ভ্রমণ, ধর্মীয় পর্যটন ও স্বাস্থ্যসেবা ভ্রমণও সহজ হয়ে উঠবে, যা আগে উচ্চ ভাড়া ও দীর্ঘ সময়ের কারণে সীমিত ছিল।

পোস্টটি শেয়ার করুন