বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

গণ অধিকার পরিষদের সদস্য প্রার্থীকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামালপুর-১ (দেওয়ানগঞ্জ–বকশীগঞ্জ) আসনে গণ অধিকার পরিষদের মনোনীত ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম রফিকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তাকে দলীয়ভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়েছে। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা গণ অধিকার পরিষদ গত মঙ্গলবার রাতের এক জরুরি সভায় এই সিদ্ধান্ত নেয়, যেখানে অভিযোগের ভিত্তিতে জানানো হয় যে, রফিকুল ইসলাম কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনা না মেনে নিজস্বভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছিলেন ও তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এর ফলে তার নেতৃত্বাধীন ডাংধরা ইউনিয়ন গণ অধিকার পরিষদ কমিটিও বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।

উপজেলা গণ অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মামুন মিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব দুলাল হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, রফিকুল ইসলাম কেন্দ্রীয় সভাপতি ভিপি নুরুল হক নুরের নির্দেশনা উপেক্ষা করে নিজের চিন্তাধারায় চালাচ্ছিলেন কার্যক্রম, যা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। এছাড়াও, স্থানীয় নেতা-কর্মীদের সঙ্গে অসদাচরণ ও প্রতারণার অভিযোগ ওঠায় দলের একাগ্রতা ও সংগঠনের শৃঙ্খলা রক্ষা করতে তাকে অবাঞ্ছিত করে দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি তার নির্বাচনী প্রচারণা ও কোন সাংগঠনিক কার্যক্রমে গণ অধিকার পরিষদের কেউ অংশ নেবে না বলেও কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

দলের পক্ষ থেকে দুলাল হোসেন বলেন, রফিকুল ইসলাম মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়ন করেছেন এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি চরম অনাস্থা প্রকাশ করেছেন, ফলে তাকে দলের প্রার্থী হিসেবে গ্রহণ করা দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, তৃণমূলের দাবি ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তার সকল সংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিচ্ছিন্ন ও তার নেতৃত্বাধীন ইউনিয়ন কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, নিজেকে নির্দোষ বলে দাবি করে রফিকুল ইসলাম এই সিদ্ধান্তকে একতরফা বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি জানান, কিছু স্থানীয় নেতা ঈর্ষান্বিত হয়ে তাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, তিনি এখনও নির্বাচনী প্রার্থী হিসেবে বৈধ এবং আইনি প্রক্রিয়ানুসারে ভোট চেয়ে যাবেন। তিনি আরও আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, সব প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি নির্বাচনে লড়াই চালিয়ে যাবেন এবং জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী। তবে এই সিদ্ধান্তটি নির্বাচনী প্রচারকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন