বৃহস্পতিবার, ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ ব্যাংক ৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করবে, অন্যান্য দুইটির উন্নয়নে সময় দেওয়া হয়েছে

দেশের আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বড় ধরনের একটি সংস্কারমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল। দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম ও খেলাপি ঋণের কারণে জর্জরিত ৯টি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬টি চূড়ান্তভাবে বন্ধ বা অবসায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ ব্যাপারে নিশ্চিত করেছেন।

অবসায়নের তালিকায় থাকা এই ছয়টি প্রতিষ্ঠান হলো— ফাস ফাইন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, অ্যাভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। পর্যালোচনায় দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে আশঙ্কাজনকভাবে ৭৫ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছায় গেছে, যার ফলে আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়ার সক্ষমতা তারা হারিয়ে ফেলেছে। তবে, তালিকায় থাকা অন্যান্য দুটি প্রতিষ্ঠান—প্রাইম ফাইন্যান্স ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি (বিআইএফসি)—তাদের আর্থিক পরিস্থিতির উন্নয়ন ও সতকর্তা বিবেচনায় তিন থেকে ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে তারা আর্থিক অবস্থা উন্নত করতে ব্যর্থ হলে তাদের বিরুদ্ধেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মূলত বিগত সরকারের আমলে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারি ও ঋণের অর্থ আত্মসাতের কারণে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশেষ করে আলোচিত পে.িক হালদার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকা লুটের ঘটনায় তাদের অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়। এর আগে, গত বছর মে মাসে ২০টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে, কোনো প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রত্যাশিত स्तरের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে না পারায়, তাদের বিরুদ্ধেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

আমানতকারীদের জন্য সুখবর হলো, গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, তারা একটি নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থপ্রাপ্ত আমানতকারীরা দ্রুত পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার আগেই তাদের মূল টাকা ফেরত পাবেন। সরকার থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল মৌখিকভাবে অনুমোদন করা হয়েছে, যার মাধ্যমে এইসব ক্ষতিগ্রস্ত আমানতকারীদের ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরণ করা সম্ভব হবে। তবে, এজন্য শর্ত দেওয়া হয়েছে যে, গ্রাহকেরা কেবল তাদের মূল টাকা ফিরে পাবেন, কোনো সুদ বা মুনাফা দেওয়া হবে না। বর্তমানে এই প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পদ মূল্যায়নের কাজ চলছে, যার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে অচিরেই দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তায় থাকা হাজার হাজার আমানতকারীর মনোবল কিছুটা হলেও ফিরে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন