ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্ট উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ২০২৫-২৬ মৌসুমের লিগপর্ব এখন একটি উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে। নতুন ফরম্যাট অনুযায়ী, আজ একক রাতেই নির্ধারিত হবে প্রতিযোগিতার শেষ পর্বের ফলাফল। ৩৬ দলের এই প্রায় সারাজীবনের লড়াইয়ে এখনো পর্যন্ত পুরো চিত্র পরিষ্কার হয়নি; বরং এখনো অনেক দলই নিজেদের ভাগ্য নিশ্চিত করতে মাঠে নামছে। এই এক রাতের ফলাফলই পারে কেবল মাঝারি মানের দলের জন্য যেন সপ্নের মতো ‘সুপার এইটে’ নিশ্চিত করে দিতে, আবার বড় দলগুলোকে নিতে পারে ঝুঁকিপূর্ণ প্লে-অফের কঠিন লড়াইয়ে। এমনকি কারো জন্য অপেক্ষা করছে টুর্নামেন্ট থেকে সরাসরি বিদায়ের দুঃখজনক বাস্তবতা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নিয়ম অনুসারে, লিগ পর্বের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলতে জায়গা করে নেবে। আর যারা ৯ থেকে ২৪ নম্বর পাবে, তাদের মাঠে খেলতে হবে দুই লেগের প্লে-অফ, যেখানে জয়ীরা মূল পর্বে প্রবেশ করবে। এর বিপরীত দিকে, তালিকার নিচের ১২ দল টুর্নামেন্ট থেকে চিরতরে ছিটকে যাবে। এখন পর্যন্ত, এই কঠিন সমীকরণে কেবল দুটি দল নিশ্চিত করেছে নিজেদের শীর্ষ অবস্থান—ইংলিশ ক্লাব আর্সেনাল ও জার্মান জায়ান্ট বায়ার্ন মিউনিখ। অন্যদিকে, আইন্ট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট, স্লাভিয়া প্রাগ, ভিয়ারিয়াল ও কাইরাত আলমাতি ইতোমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত করেছে।
পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকাকে কেন্দ্র করে আজ মূল লড়াইটা চলছে আর্সেনাল ও বায়ার্নের মধ্যে। আর্সেনাল তাদের শেষ ম্যাচে জয় বা ড্র করলে নিশ্চিত করবে এক নম্বর স্থান। তবে যদি হার নিয়ে বায়ার্ন বড় জয় পায়, তবে বায়ার্নই শীর্ষে অবস্থান নিবে। অন্যদিকে, স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদও লক্ষ্য করছে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ, জয় পেলেই তারা থাকতে পারে দ্বিতীয় স্থানে। পাশাপাশি লিভারপুল, বার্সেলোনা, পিএসজি, ম্যানচেস্টার সিটি এবং ইন্টার মিলানও এখনো এই দৌড়ে টিকে আছে, সরাসরি শেষ ১৬ নিশ্চিত করতে।
শীর্ষে ওঠার পাশাপাশি, মাঝখানের দলগুলোও ছটফটে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। মার্সেই, লেভারকুজেন, নাপোলি এবং বেনফিকা চেষ্টা করছে প্লে-অফের জন্য সেরা ২৪-এ থাকতেই। প্রতিটি গোল, প্রতিটি পয়েন্ট এই রাতের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এই শেষ দিনটি কোনো সাধারণ ম্যাচ নয়; বরং এটি ৩৬ দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিশ্রমের শেষ পরীক্ষা। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আজকের রাতটি হতে যাচ্ছে এক সঞ্চালনাত্মক যুদ্ধ, যেখানে ৯০ মিনিটের পারফরম্যান্সই নির্ধারণ করবে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলের ভবিষ্যত। কারো জন্য হবে আনন্দের দিন, আবার কারো জন্য হতে পারে বিদায়ের অশ্রুর রাত।





