বলিউড ও টলিউডসহ উপমহাদেশের সংগীত জগতে একচ্ছত্র পরিচিত নাম অরিজিৎ সিং প্লেব্যাক সঙ্গীত থেকে বিদায় নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গত দশকে কোটি ভক্তের হৃদয় জয় করা এই জনপ্রিয় গায়ক মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তার মাধ্যমে তাঁর এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ করেন। তাঁর এমন অপ্রত্যাশিত ঘোষণায় অগণিত ভক্ত ও সংগীতপ্রেমীদের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ময় ও স্তম্ভিত হওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। ক্যারিয়ারের শীর্ষে থাকার সময়ে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেরই যুগের অবসান বলে মনে করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় অরিজিৎ সিং তার ভেরিফায়েড সামাজিক মাধ্যমের পোস্টে বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতাদের থেকে পেয়েছেন অসীম ভালোবাসা ও সমর্থন, যা তাঁর জন্য অমূল্য। তবে একই সঙ্গে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন যে, এখন থেকে তিনি নতুন কোনো চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেবেন না। নিজের দীর্ঘ সংগীত জীবন থেকে এই বিদায়ের মাধ্যমে তিনি এক অধ্যায় শেষ করছেন বলে জানান। তবে চলচ্চিত্রের বাইরে ব্যক্তিগত প্রজেক্ট, অ্যালবাম বা লাইভ কনসার্টে অংশ নেওয়া চালিয়ে যাবেন কি না, সে বিষয়ে ততটা স্পষ্টভাবে কিছু বলেননি।
অরিজিৎ সিংয়ের এই ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২০১১ সালে ‘মার্ডার ২’ সিনেমার ‘ফির মহব্বত’ গানের মাধ্যমে। তবে তার মোড় ঘুরে যায় ২০১৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘আশিকি ২’ সিনেমার জনপ্রিয় গান ‘তুম হি হো’ তারকায় পরিণত হওয়ার পর। এই গান তাকে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা এনে দেয় এবং প্লেব্যাক সংগীতের ধারা বদলে দেয়। এরপর নানা ধরনের গান গেয়ে তিনি নিজের বহুমুখী প্রতিভা প্রমাণ করেছেন—শাস্ত্রীয় থেকে রক, পপ ও জ্যাজ সব ধরণের গানের সঙ্গে তাঁর পারদর্শিতা স্পষ্টতা পেয়েছে।
অরিজিৎ শুধু হিন্দি সিনেমাই নয়, বাংলা চলচ্চিত্রের সংগীতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। ‘বোঝে না সে বোঝে না’, ‘মেঘবালিকা’, ‘বসন্ত এসে গেছে’ প্রভৃতি তাঁর গাওয়া গান বাঙালির জীবনের অঙ্গ হয়ে উঠেছে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকার পরও তিনি এই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অনেকেরই বিস্ময় প্রকাশ হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও চলচ্চিত্র মহলে এখন ব্যাপক আলোচনা ও বিশ্লেষণ চলছে कि কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। কিছু ভক্ত এই পরিবর্তন মানতে পারছেন না, অন্যরা মনে করছেন, হয়তো নতুন সৃজনশীল দিগন্তে যাওয়ার জন্য তিনি এই পথ বেছে নিয়েছেন। তবে যা-ই হোক, রূপালি পর্দার পেছনের এই অপ্রতিদ্বন্দ্বী কণ্ঠস্বরের অনুপস্থিতি স্বাভাবিকভাবেই সংগীত জগতে এক বিরাট শূন্যতা সৃষ্টি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





