বুধবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’ এর প্রভাবে ইতালিতে জরুরি অবস্থা ঘোষণা

ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ‘হ্যারি’ এর প্রভাবে ইতালির দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক বৃষ্টিপাত ও ধ্বংসাত্মক ভূমিধসের কারণে ত্রস্ত হয়ে পড়েছে দেশটি। প্রাকৃতিক এই বিপর্যয়ে এখন পর্যন্ত বিশাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং জানমালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতালি সরকার কালাব্রিয়া, সিসিলি ও সার্ডিনিয়া অঞ্চলে আগামী এক বছরের জন্য আনুষ্ঠানিক জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। গত সোমবার (২৭ জানুয়ারি) একটি কঠিন পরিস্থিতির পর মন্ত্রিসভা এই সিদ্ধান্ত নেয়। বিশেষ করে সিসিলির নিসেমি শহরে দেড় হাজারের বেশি বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে, যা পুরো অঞ্চলে মানবিক সংকট সৃষ্টি করেছে।

ইতালির নাগরিক সুরক্ষা মন্ত্রী নেলো মুসুমেসি পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ভূমিধসের গতি শহর কেন্দ্রীক বিপজ্জনকভাবে অগ্রসর হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত ‘সেফটি বাফার জোন’ ১০০ মিটার থেকে বাড়িয়ে এখন ১৫০ মিটার করা হয়েছে। বর্তমানে এই ধসে যাওয়া ভূমির এলাকাটি প্রায় চার কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত। নাগরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ফ্যাবিও সিসিলিয়ানো সতর্ক করে বলেছেন, মাটির সরে যাওয়ার প্রবণতা এখনও সম্পূর্ণ রোধ হয়নি, ফলে ভবিষ্যতে আরো বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে পারে।

তাল মিলিয়ে, ইতালি সরকার দ্রুত উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য, ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও জরুরি পরিষেবাগুলি পুনরুদ্ধারের জন্য জাতীয় জরুরি তহবিল থেকে ১০ কোটি ইউরো বরাদ্দ করেছে। এদিকে পরিস্থিতি এখনও স্থিতিশীল নয় বলে জানিয়েছে ইতালির জন্যে সংবর্ধিত সংবাদ সংস্থা আনসা। তারা জানিয়েছে, ভেনেটো, সার্ডিনিয়া ও কাম্পানিয়াসহ বেশ কিছু এলাকায় ‘ইয়েলো অ্যালার্ট’ বা সতর্কতা জারি রয়েছে। নিসেমি শহরের মেয়র মাসিমিলিয়ানো কন্টি এটিকে ‘নাটকীয়’ বলে বর্ণনা করেছেন, এবং রাতারাতি নতুন ভূমিধসের কারণে জননিরাপত্তার স্বার্থে শহরটির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও প্রধান সড়কগুলো অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

উত্তর ইতালির আরেনজানো ও জেনোয়ার মধ্যবর্তী প্রদেশেও নতুন ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকূলীয় সড়ক ধসে পড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা প্রশিক্ষিত কুকুরের মাধ্যমে ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়ে থাকলে তা খুঁজে বের করার জন্য তল্লাশি চালাচ্ছেন। যদিও এখনো কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে সার্ডিনিয়ার কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার জন্য ভারি বৃষ্টিপাত ও আরো ভূমিধসের ঝুঁকি সতর্ক করে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার অনুরোধ জানিয়েছে। মূলত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই আকস্মিক দুর্যোগ মোকাবেলায় স্থানীয় প্রশাসন একপ্রকার হিমশিম খাচ্ছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন