বুধবার, ২৮শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৪ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

আকাশসীমা আংশিক বন্ধ করে ইরানের মহড়া চালু হরমুজ প্রণালিতে

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির বিস্তার ও আধিপত্য বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে, ইরান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে বড় ধরনের সামরিক মহড়া শুরু করেছে। এই মহড়াকে হিসেবে ‘লাইভ ড্রিল’ বা সরাসরি গোলাবর্ষণ মহড়া হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে, যা মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত চলবে। ইরানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই মহড়ার সময় নির্ধারিত এলাকায় ৫ নটিক্যাল মাইল ব্যাসার্ধে ভূপৃষ্ঠ থেকে ২৫ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সমস্ত ধরনের বেসামরিক ও সামরিক উড্ডয়ন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি তেল পরিবহণ রুট হিসেবে পরিচিত এই প্রণালিতে ইরানের এই সামরিক কার্যক্রম নতুন করে বিশ্ববাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।একই সময়ে এই মহড়ার পাশাপাশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ বিমানবাহী রণতরী ও অন্যান্য আধুনিক যুদ্ধজাহাজ মধ্যপ্রাচ্যের উপকূলে অবস্থান নিয়েছে। নভনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যে এই অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছেন, তিনি একটি শক্তিশালী নৌবহর পাঠাচ্ছেন, যার মাধ্যমে একটি কার্যকর সমঝোতা আশা করা হচ্ছে।পেন্টাগন ইতিমধ্যে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত যুদ্ধবিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছে, যা ইরানকে আরও সতর্ক হয়ে উঠতে বাধ্য করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।মহড়ার সময়ে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি তীব্র বার্তা দেয়া হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, যদি কোনো দেশ ইরানের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে হামলার চেষ্টা করে, তবে তা সরাসরি শত্রুতা হিসেবে গণ্য হবে। ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ছোট বা বড় যে কোনও ধরনের হামলাকেই তারা ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবেন এবং এর কঠোর প্রতিশোধ নেবেন। তবে এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তেহরানকে আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে তাদের আকাশসীমা বা ভূমি ব্যবহার করবে না। অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছেন। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, যদি ইরান ইসরাইলের ওপর কোনও হামলা চালায়, তবে এর জবাবে ইরানকে এমন শক্তিশালী দিয়ে উত্তর দেয়া হবে যা আগে কখনো দেখা যায়নি। ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা না করেই ইসরাইল নিজস্ব নিরাপত্তা রক্ষায় যে কোনও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত থাকছে বলে তিনি স্পষ্ট করেছেন। এই দুই পক্ষের কঠোর অবস্থান ও পাল্টা উদ্যোগের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে একটি চরম উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে, এবং এটি যে কোনও সময় বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নিতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন