ভেনেজুয়েলার প্রাক্তন ও ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে মার্কিন কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবিতে দেশটির রাজধানী কারাকাসে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এক মাস আগে মার্কিন সেনাদের হাতে নাটকীয়ভাবে আটক হওয়ার পর থেকে এই প্রথম দেশজুড়ে এত বড় গণজোয়ার দেখা দিলো। মঙ্গলবার হাজার হাজার সমর্থক রাস্তায় নেমে এই বিক্ষোভে অংশ নেন, যেখানে তারা মাদুরোকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার এবং মার্কিন হস্তক্ষেপ বন্ধের দাবি জানান। বার্তাসংস্থা এফপি’র প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, কারাকাসের রাজপথ ‘ভেনেজুয়েলার প্রয়োজন নিকোলাস’ স্লোগানে মুখরিত ছিল। সমর্থকরা দলের নেতাকে ফিরে পেতে নানা ধরনের ব্যানার ও পতাকা হাতে নিয়ে ক্ষোভ ও আশা প্রকাশ করেন। তারা উচ্চস্বরে গান বাজিয়ে, ভেনেজুয়েলার জাতীয় পতাকা উড়িয়ে এক আবেগপূর্ণ পরিবেশ তৈরী করে। উল্লেখ্য, এক মাস আগে মার্কিন সেনাদের হাতে মাদুরো আটক হওয়ার সময় থেকেই তার জন্য উদ্বেগ বেড়েছে, কারণ তখন থেকে তাকে নিউইয়র্কের আদালতে ডোজিং মামলার বিচার চলছে, যা তার অনুসারীদের মধ্যে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
মাদুরোর এই অনুপস্থিতিতে ভেনেজুয়েলার বর্তমান পরিস্থিতি বেশ জটিল হয়ে উঠেছে। অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজকে এখন কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। তাকে এক দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখতে হচ্ছে আর অন্য দিকে সরকারের পক্ষ থেকে মাদুরোপন্থী দলের ও সাধারণ মানুষের চাপ সামলাতে হচ্ছে। এই দ্বৈত চ্যালেঞ্জের কারণে দেশের রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অবশ্য, মাদুরোকে মুক্তি ও দেশে ফেরানোর জন্য সমর্থকদের ক্ষোভ বাড়ার মধ্যে বিরোধী দলগুলো নতুন করে নির্বাচন ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবি জোর দিচ্ছেন। বিরোধী শিবিরের মতে, মাদুরোর ক্ষমতা থেকে অপসারণের একমাত্র উপায় হলো অবিলম্বে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। এই পরিস্থিতিতে, মাদুরোর মামলা ও তার মুক্তির জন্য চলমান দাবির মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলার রাজনীতি এখন একচুল কোথাও স্থির হচ্ছে না। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, মাদুরোর বিচারের জন্য মার্কিন বন্দিশালায় যত বেশি সময় লাগবে, ততই দেশের রাজপথ উত্তপ্ত হয়ে উঠার সম্ভাবনা প্রবল।





