শুক্রবার, ৬ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৩শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এপস্টেইনের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য বিল গেটস ক্ষমা চান

বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তিত্ব ও মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্প্রতি আরও একবার তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনায় এসেছেন। তার অতীতের সম্পর্কের বিষয়টি নিয়ে নতুন করে মুখ খুলে তিনি বলছেন, জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো সময়ের জন্য তিনি গভীর দুঃখিত এবং প্রতিটি মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। এই বিষয়টি তখন আবার প্রকাশ্যে আসে, যখন যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টেইন সংক্রান্ত অসংখ্য গোপন নথি প্রকাশ করে, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করে। এই নথি থেকে কিছু স্বস্তি আনার মতো তথ্য বেরিয়ে আসায় বিল গেটস তার অবস্থান সুস্পষ্ট করে ধরেছেন।

এর মধ্যে একটি খসড়া ইমেইল সবচেয়ে বিতর্কিত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়েছে। এতে দাবি করা হয়েছে, জেফরি এপস্টেইন একটি রুশ নারীর সঙ্গে বিল গেটসের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। এছাড়া, সেখানে উল্লেখ রয়েছে যে সেই সম্পর্কের কারণে গেটস অসুস্থ হয়ে পড়লে এপস্টেইন তাঁকে বিশেষ কিছু ওষুধ সরবরাহ করেছিলেন। ইমেইলে আরও বলা হয়, তিনি অন্য বিবাহিত নারীর সঙ্গেও সম্পর্ক রাখতে পারেন, এ জন্য এপস্টেইন তাকে নানা রকম সহায়তা করেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে بسیاری এখন প্রশ্ন তুলছেন, এই সম্পর্কের সত্যতা কতটা।

তবে বিল গেটস এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন। অস্ট্রেলিয়ার ৯নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, ওই খসড়া ইমেইলটি কখনো পাঠানো হয়নি এবং এর সব তথ্যই ভুয়া। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না কেন এপস্টেইন এ ধরনের ইমেইল লিখেছিলেন বা তার কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না।’ একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি তার সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মিনিটের জন্য অনুতপ্ত এবং এর জন্য আমি ক্ষমা চাই।’ তাঁর মতে, এপস্টেইনের মতো একজন জঘন্য অপরাধীর সঙ্গে যোগাযোগের ঘটনা ছিল একদমই ভুল।

বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, ২০১১ সালে প্রথম তাদের যোগাযোগের শুরু হয়। তবে পরবর্তী তিন বছর কোনও ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা অপদার্থ আচরণের কিছু হয়নি। তিনি আবার জানান, এপস্টেইনের মালিকানাধীন ক্যারিবীয় দ্বীপে তার কোনো দেখা বা যাওয়া হয়নি। এমনকি, এ পাসোর্ট বা অন্য অপ্রচলিত বিষয়েও কোনও তথ্যের প্রমাণ নেই। বিল গেটসের এক মুখপাত্রও জানিয়েছেন, এই ধরনের অভিযোগের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই। মূলত, এই সব নথি ও অভিযোগের ব্যাপারে নিজের নাম রাখার জন্য তিনি স্বচ্ছতা ও সততার পরিচয় দিয়েছেন। আজকের সমাজে সত্যতা প্রতিষ্ঠার জন্য এই ধরনের স্পষ্ট বক্তব্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পোস্টটি শেয়ার করুন