আন্তর্জাতিক এনার্জি এজেন্সি (আইইএ) তাদের সর্বশেষ প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, চলতি বছরে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীরগতিতে এগোতে পারে। প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে দৈনিক ৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল করে তেলের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা গত মাসের পূর্বাভাসের তুলনায় ৮০ হাজার ব্যারেল কম। এছাড়া, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চমূল্যের আশঙ্কা এবং বৈশ্বিক মহামারীর প্রভাবের কারণে বিশ্লেষকরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে ২০২৬ সাল নাগাদ বিশ্বজুড়ে তেলের মোট ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পেতে পারে।
আইইএর মাসিক প্রতিবেদনের পর্যালোচনা বলছে, ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ চাহিদার তুলনায় দৈনিক গড়ে ৩৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ এঁকেবেঁকে থাকতে পারে, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪ শতাংশের সমান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে উত্তর আমেরিকার শীতকালীন তুষারঝড়, চরম আবহাওয়া ও কাজাখস্তানসহ বিভিন্ন দেশের উৎপাদন বাধার কারণে সারা বিশ্বে তেলের সরবরাহ দৈনিক ১২ লাখ ব্যারেলে কমে ১০ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেলে নেমে এসেছে। এই পরিস্থিতি বিবেচনায়, আইইএ ২০২৬ সালের জন্য সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্য সুসংহত করে পূর্বের ২৫ লাখ ব্যারেল থেকে কমিয়ে ২৪ লাখ ব্যারেলে পুনঃনির্ধারণ করেছে।
বাজারের এই অস্থিরতার মূল কারণের মধ্যে রয়েছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, ওপেক প্লাসভুক্ত সদস্য দেশগুলোর উৎপাদন বৃদ্ধি পরিকল্পনা এবং নতুন উদীয়মান দেশগুলোর তেল উত্তোলনে মনোযোগ। বিশেষ করে ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ওপেক পলাসহ গায়ানা ও ব্রাজিলের মতো দেশগুলো উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা করলেও, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের এই উদ্যোগ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দর এখন নিম্নমুখী, কারণ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি কিছুটা প্রশমিত হয়েছে। শেষ আপডেটে জানা গেছে, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রতি ব্যারেল প্রায় ১২ সেন্ট কমে ৬৭ ডলার ৪০ সেন্টে এবং মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ১৩ সেন্ট কমে ৬২ ডলার ৭১ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।





