নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে কুকুর, বিড়াল বা বানরের কামড়ে আক্রান্ত রোগীদের জীবনরক্ষাকারী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন (এআরভি) তীব্র সংকটে পড়েছে। সরকারি ভ্যাকসিন না থাকায় গত কয়েকদিন ধরে জেলা ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা শত শত রোগী বিপাকে পড়েছেন এবং অনিশ্চয়তার মুখে পড়ছেন।
হাসপাতালের বাইরে থাকা ফার্মেসিগুলোতেও ভ্যাকসিন নেই বা অত্যন্ত কম পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে বলে অভিজ্ঞতা করেছেন রোগীরা। সরকারি হাসপাতালে নিয়ম অনুযায়ী এই ভ্যাকসিন বিনামূল্যে বা নামমাত্র মূল্যে পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তা মিলছে না বলে তারা অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, হাসপাতালে গেলে কর্মরতরা সরাসরি জানিয়ে দিচ্ছেন যে সরকারি সরবরাহ নেই। অনেকে ফিরে যাচ্ছেন, আবার কেউ কেউ মাঝপথে দালালের হাতে পড়ে অতিরিক্ত দাম দিয়ে ভ্যাকসিন কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে বারবার “সাপ্লাই নেই” বলে একই অজুহাত শুনতে হচ্ছে। বাইরের ফার্মেসিতেও সেলসম্যানরা অনেক সময় ইনজেকশন ওষুধ না পেলে হতাশায় ফেলে দিচ্ছে; কিছু দোকানে গোপনে ভ্যাকসিন থাকলেও তা কয়েকগুণ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে — যা দরিদ্র রোগীর পক্ষে কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সদর উপজেলার এক ভুক্তভোগী হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে বলে উঠেছেন, ‘কুকুরে কামড়ানোর পর দৌড়ে হাসপাতালে এলাম। ডাক্তার বলল সরকারি ভ্যাকসিন নাই। বাইরে খুঁজলেও নেই। যদি এখন বিষ শরীরে ছড়িয়ে পড়ে, তার দায় কে নেবে? আমরা গরিব মানুষ, আমাদের কোনো মূল্য নেই কি?’
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ অনেক কম এবং সেন্ট্রাল ড্রাগ স্টোর (সিএমএসডি) থেকে সরবরাহ অস্থায়ীভাবে বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারা বলেছেন, সরবরাহ পুনরায় শুরু হওয়ার সাথে সাথেই বিনামূল্যে সেবা চালু করা হবে বলে চেষ্টা করা হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, জলাতঙ্ক একটি প্রায়শই প্রাণঘাতী রোগ; সময়মতো ভ্যাকসিন না নিলে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। নেত্রকোনা জেলায় সম্প্রতি বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব বাড়ায় কামড়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে; এমন পরিস্থিতিতে ভ্যাকসিনের এই তীব্র সংকট পুরো জেলার জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।
আঞ্চলিক জনতা ও রোগীরা দাবি করছেন, দ্রুত সরকারি উদ্যোগে জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে এবং বাজারে অন্যায় দামের ওপর কড়া নজর রাখা ও মনিটরিং বাড়াতে প্রশাসনের দুয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।





