মঙ্গলবার, ১৭ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৪ঠা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

টটেনহ্যামের ডাগআউটের নতুন কمان্ডার: ইগর টিউডর

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব টটেনহ্যাম হটস্পার তাদের প্রধান কোচ হিসেবে ইগর টিউডরকে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগ করেছে। ক্লাব সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমের শেষ পর্যন্ত ৪৭ বছর বয়সী ক্রোয়াট কোচকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

টটেনহ্যামের খারাপ ফলের পরিপ্রেক্ষিতে টমাস ফ্র্যাঙ্ককে বরখাস্ত করে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মাত্র আট মাস দায়িত্বে থাকার পর বার করা ফ্র্যাঙ্কের স্থলে এখন টিউডরকে দেখা যাবে ডাগআউটে—এক কঠিন সময়েই তার নতুন মিশন শুরু হলো।

বর্তমান পরিসংখ্যান টটেনহ্যামের জন্য উদ্বেগজনক: লিগে ১৭টি ম্যাচে মাত্র দুটি জয় পেয়েছে দলটি, যার ফলে পয়েন্ট টেবিলে তারা অবনমন অঞ্চলের মাত্র পাঁচ পয়েন্ট ওপরে অবস্থান করছে। এসব পরিস্থিতি বদলে লিগে নিরাপদ স্থানে ফিরিয়ে আনাই টিউডরের প্রধান লক্ষ্য বলে ক্লাব জানিয়েছে।

ইগর টিউডরের দায়িত্ব নেওয়ার পর তার প্রথম বড় পরীক্ষা হবে ২২ ফেব্রুয়ারি — নর্থ লন্ডন ডার্বিতে আর্সেনালের বিপক্ষে টোটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে। এই উচ্চ-চাপের ম্যাচকে কোচিং ও কৌশলের প্রথম বাস্তব পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নতুন দায়িত্বে এসে টিউডরকে ক্লাবের হয়ে কাজ করতে পেরে সম্মান মনে হচ্ছে, তিনি সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন। তার বক্তব্যে লক্ষ্য স্পষ্ট—দলের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা আনা, আত্মবিশ্বাস পুনরুদ্ধার এবং প্রতিটি ম্যাচে জয়ের মানসিকতা তৈরি করা। তিনি বিশ্বাস করেন বর্তমান স্কোয়াডে যথেষ্ট মানসম্পন্ন খেলোয়াড় আছেন এবং সঠিক ব্যবস্থাপনায় দ্রুত ফল পাওয়া যাবে।

ক্লাবের স্পোর্টিং ডিরেক্টর ইয়োহান ল্যাঙ্গও টিউডরের অভিজ্ঞতার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন এবং বলেছেন, কঠিন সময়ে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে তার সক্ষমতা আলাদা। টটেনহ্যাম অনুসারে তারা টিউডরের আক্রমণাত্মক ফুটবলের পাশাপাশি কঠোর শৃঙ্খলার দৃষ্টিভঙ্গিকেও কাজে লাগাতে চায়।

ফুটবল বিশ্বে টিউডরকে একজন পরীক্ষিত কোচ হিসেবে দেখা হয়—তার ক্যারিয়ারে লাজিও, মার্সেই, গ্যালাতাসারে এবং জুভেন্টাসের মতো ক্লাব রয়েছে। তবু একটি পরিসংখ্যানও আলোচনায় আছে: তিনি এখন পর্যন্ত কোনো ক্লাবেই দুই বছরের বেশি সময় স্থায়ীভাবে থাকতে পারেননি। এই অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও টটেনহ্যাম এখন তার নেতৃত্বে দ্রুত ফল চাইছে।

সমর্থকদের নজর এখন নতুন কোচের উপর—নর্থ লন্ডন ডার্বির মতো বড় মঞ্চে টিউডর টটেনহ্যামের ভাগ্য বদলাতে পারবেন কি না এবং দলকে প্রিমিয়ার লিগের তলানির বাইরে কিভাবে নিয়ে আসবেন, সেটাই সময়ের পরীক্ষায় 밝혖 করবে। সব মিলিয়ে ক্লাব ও সমর্থকরা নতুন অধ্যায়ে আশাবাদী, আবার সতর্কও।

পোস্টটি শেয়ার করুন