বুধবার, ১৮ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৪ প্রতিমন্ত্রী শপথ নিলেন — নতুন অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের যাত্রা শুরু

বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে মঙ্গলবার বিকেলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবন দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত উন্মুক্ত ও রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীদের আনুষ্ঠানিক শপথবাক্য পাঠ করে দায়িত্বভার গ্রহণ করান। একই মঞ্চে এর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ শেষে নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের এই পর্যায়টি দেশের বিভিন্ন এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি করেছে।

প্রতিমন্ত্রীদের তালিকায় দেশের প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের পাশাপাশি ছাত্র-জনতা ও তরুণ নেতৃত্বও জায়গা পেয়েছে। শপথ নেয়া প্রতিনিধিদের মধ্যে আছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মো. শরিফুল আলম, ফরিদপুরের শামা ওবায়েদ ইসলাম, যুবনেতা সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দলীয় আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং ঢাকার তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন। চট্টগ্রামের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী ও মীর শাহে আলমও আজ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন।

এই নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে লক্ষণীয় দাবিকথা হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সমন্বয়ে গঠিত অন্তর্ভুক্তিমূলক ছাপ। জুলাইয়ের ঘটনাবলম্বী অভ্যুত্থানের সময় সাড়া ফেলা ব্যক্তিত্বরা—গণসংহতি আন্দোলনের মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি), গণঅধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নুর (ভিপি নুর) ও এনডিপি নেতা ববি হাজ্জাজ—সহ বিভিন্ন ফ্রন্টের নেতারা প্রতিমন্ত্রীর হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, যা রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এছাড়া শপথ নিয়ে রয়েছেন ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর ও রাজবাড়ীর প্রবীণ নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।

ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চ পর্যায়ের অতিথিরাও উপস্থিত ছিলেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে এই আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন সংসদীয় ইতিহাসে বিরল এবং অনুষ্ঠানের মর্যাদা বাড়িয়েছে।

শপথগ্রহণের পর নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের সার্বিক উন্নয়ন ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে নিজস্ব দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন। সরকার বলেছে যে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল থেকেই প্রশাসনিক কাজকর্ম পূর্ণ উদ্যমে শুরু হবে। বহুবিধ দলের সমন্বয়ে গড়া এই মন্ত্রিসভা দেশ উন্নয়ন, প্রশাসনিক সংস্কার ও জনগণের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমনটাই রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন