রবিবার, ২২শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৯ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সরকারের পরিকল্পনা: এই মাস থেকেই শুরু হবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ

দেশে সাধারণ জনগণের সামাজিক সুরক্ষা বাড়ানোর লক্ষ্যে, চলতি ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই ৪ কোটি ১০ লাখ পরিবারের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আজ শনিবার, মহান একুশে ফেব্রুয়ারী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে বরিশালে এক আলোচনা সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন শপন এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। সরকারের এই বৃহৎ উদ্যোগ দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে সরাসরি সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে, যা বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের চেতনা ও দেশের স্বকীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র রক্তক্ষয়ী আন্দোলনের ভিত্তিতে দেশের মুক্তি ও উন্নতি অর্জন সম্ভব নয়; এজন্য দরকার একটি সুসংগঠিত, দূরদর্শী পরিকল্পনা। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে ‘৩১ দফা রাষ্ট্র মেরামত’ রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, সরকারের প্রতিশ্রুতি সবসময় পরিষ্কার এবং জনগণের কাছাকাছি থেকে দেশ পরিচালনায় অঙ্গীকারবদ্ধ। এই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ প্রকল্পও এই জনবান্ধব নীতির একটি অংশ।

সভায় প্রশাসনিক সংস্কার ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার ওপর জোর দিয়ে বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক যত স্বচ্ছ হবে, ততই ভুল বোঝাবুঝি ও দুরত্ব কমবে। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন, বিগত বছরগুলোতে প্রশাসনকে কেবল কোনো দলের আঞ্চলিক বাহিনী হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। বর্তমান কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সত্যিকারের দায়িত্বে থাকাকালীন পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন, তাঁদের যথাযথ সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। অপরদিকে, যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে অন্যায় করেছেন, তাঁদের আইনের আওতায় আনা হবে।

যোগদান করেন জহির উদ্দিন শপন আরও জানিয়ে, সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা সফল করতে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা অপরিহার্য। তিনি কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান যেন তারা কোনও রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত থাকেন এবং জনগণের সেবা দেন। একুশের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে, দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন একটি স্বপ্নের দেশ গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষেরা সরাসরি সরকারের সেবা পেয়ে উপকৃত হবেন বলে বিশ্বাস ব্যক্ত করেন। সভায় বরিশালের স্থানীয় প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

পোস্টটি শেয়ার করুন