সরকারি নিয়োগের সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) সংযুক্ত এক গাড়িচালকের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছে। অভিযোগের শুরুতে মো. আতাউর রহমান নামের ওই চালকের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২২ লাখ ২৮ হাজার ৫৪৪ টাকা (৩,২২,২৮,৫৪৪) মূল্যমানের অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য আসে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুদকের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে। সমন্বিত কার্যালয় ঢাকা-১ থেকে সহকারী পরিচালক আসিফ আল মাহমুদ মামলাটি দায়ের করেন।
দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, পিএসসিতে প্রশ্নফাঁস, নিয়োগ-বাণিজ্য ও নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে আতাউরের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। তদন্তে তার বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল আর্থিক সেবা মাধ্যমে সর্বস্বভাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। ২০১৪ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তার নামে থাকা কয়েকটি ব্যাংক হিসাব থেকে মোট ১৮৯টি লেনদেন শনাক্ত করা হয়েছে; প্রতিটি লেনদেনের পরিমাণ ৫০ হাজার থেকে ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। এসব অর্থের বৈধ উৎস তিনি হাজির করতে পারেননি।
বাজেয়াপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ব্যাংকিং চ্যানেলের পাশাপাশি মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেও বড় অঙ্কের লেনদেন হয়েছে। নিজের পাশাপাশি পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের হিসাব ব্যবহার করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগও আছে। অবৈধ এই আয়ের টাকা দিয়ে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় আতাউর ও তার পরিবারের নামে একাধিক ফ্ল্যাট, প্লট এবং গাড়ি কেনার তথ্য দুদক পেয়েছে।
পিএসসির এক সূত্র জানায় যে অভ্যন্তরীণ তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আতাউরকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। পিএসসির জনসংযোগ কর্মকর্তা এস এম মতিউর রহমান জানান, বিষয়টি তিনি এখনও নিশ্চিতভাবে জানেন না; খোঁজ নিয়ে পরে জানানো হবে।
নামজড়িত সূত্র বলছে, আতাউর রহমান পিএসসির সাবেক সদস্য শেখ আলতাফ আলীসহ কয়েকজন সদস্য ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার গাড়িচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। দায়িত্বকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে উঠে এসেছে।
দুদকের মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, অনুসন্ধান কর্মকর্তার সুপারিশের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়েছে। এর আগে পিএসসির চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলীর বিরুদ্ধে প্রশ্নফাঁস চক্রসহ আইনি অভিযোগ ও বিশাল সম্পদের সন্ধান মিলেছিল, যে ঘটনায় তার বিরুদ্ধেেও একাধিক মামলা হয়েছে।





