মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ডলারের পতনে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে

গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তের ফলে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ার পর বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে মার্কিন ডলারের মান কিছুটা কমে গেলেও, সোমবার বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়, সোমবার স্পটে স্বর্ণের মূল্য ১.২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্সে ৫,১৬৩.৬০ ডলারে পৌঁছেছে। পাশাপাশি, এপ্রিল ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচার দামে একই সময়ে ২ শতাংশ বৃদ্ধি প্রকাশ পেয়ে ৫,১৮৪.৯০ ডলারে বিক্রি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আদালতের এই সিদ্ধান্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাকে সীমিত করলেও, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। ডলারের দুর্বলতা ও সুদের হার কমানোর আগাম প্রত্যাশা বিনিয়োগকারীদের স্বর্ণের প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফেডারেল রিজার্ভের সংকেত অনুযায়ী, চলতি বছরে তিনবার সুদের হার কমানোর প্রত্যাশা বাজারে প্রভাব ফেলছে।

চীনে চন্দ্রনববর্ষের ছুটির কারণে লেনদেন কিছুটা কম থাকলেও, বাজারের অস্থিরতা বিরাজ করছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হলেও, নিরাপদ বিনিয়োগেরূপে স্বর্ণের চাহিদা কমেনি। ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে ছাড়ের আভাস থাকলেও, দাম বৃদ্ধির প্রবণতা কমাতে পারেনি।

শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ৩.১ শতাংশ বাড়ে এবং প্রতি আউন্সে ৮৭.১০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে, প্লাটিনামের দাম ১.২ শতাংশ এবং প্যালাডিয়ামের দাম ০.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্ববাজারের এই পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশের স্বর্ণ ও রুপার মূল্য পুনর্বিন্যাসের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর আগে, ২১ ফেব্রুয়ারি বাজুস দেশের স্বর্ণের দাম বাড়িয়েছিল। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ২,৫৮,৮২৪ টাকা এবং প্রতি ভরি রুপা ৬,৭০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যদি বিশ্ববাজারের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তাহলে ভবিষ্যতে নতুন মূল্যস্তর স্পর্শ করার সম্ভাবনা রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন