মঙ্গলবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

অর্থনৈতিক সংস্কারই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে এবং দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছেন। তিনি এমন এক সময়ে দেশের দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন নানা অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা, শক্তিশালী বিরোধিতা ও প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন—সবই তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে তারেক রহমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষাটি হবে দেশের ধীরগতি অর্থনীতিকে পুনরায় গতিশীল করা। কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশের গ্রোথ, রপ্তানি বৃদ্ধি, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মাথাপিছু আয়ের ধারাবাহিক উন্নতির কারণে নানান আঞ্চলিক তুলনায় দেশকে ‘এশিয়ার টাইগার’দের সঙ্গে তুলনা করা হতো। কিন্তু গত দুই বছরে পরিস্থিতি পাল্টেছে: মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে গেছে, জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে প্রায় চার শতাংশে দাঁড়িয়েছে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগও সংকুচিত হয়েছে।

শুধু অর্থনৈতিক সূচক নয়—সামাজিক স্থিতিশীলতা ফেরানো ও বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে আনা তারেকের অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। অস্থিরতার পর দেশের অর্থনীতিকে আবার নিজের পায়ে দাড় করানো সহজ হবে না; এজন্য দ্রুত ও সুশৃঙ্খল সংস্কার প্রয়োজন।

তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি দ্বিগুণ করা, লাখ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির এবং সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য কল্যাণমূলক কর্মসূচি চালুর কথা বলা হয়েছিল। তবে এসব উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যের বাস্তবায়ন কীভাবে করা হবে—এ পর্যন্ত বিস্তারিত রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়নি। উদাহরণস্বরূপ, ২০৩৪ সালের মধ্যে জিডিপি দ্বিগুণ করার জন্য প্রতি বছর প্রায় ৯ শতাংশ প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন, যা বর্তমানে যে প্রবৃদ্ধির হার দেখা যাচ্ছে তার তুলনায় অনেক বেশি।

তারেক রহমান নিশ্চিত করেছেন যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ekonomik প্রয়োজনে পরিচালিত হবে; তাই ঢাকা এখন ‘আসিয়ান’ সদস্যপদের দিকে আগ্রহ দেখাচ্ছে। এই কৌশল প্রতিবেশী দেশগুলো এবং বৃহত্তর দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনতে সহায়তা করবে। তাছাড়া দেশের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে স্থিতিশীল ও ফলপ্রসূ সম্পর্ক প্রয়োজন হবে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কের উপর নির্ভর করবে না; অভ্যন্তরেও বিনিয়োগবান পরিবেশ, আইনি সুস্পষ্টতা, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সামাজিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা দরকার। বিনিয়োগকারীরা—স্থানীয় হোক বা আন্তর্জাতিক—অবাধ্যতা বা রাজনৈতিক টানাপোড়েন পছন্দ করে না; সেজন্য সরকারের কাজ হবে নির্ভরযোগ্য নীতিমালা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কার্যকর исполнা প্রদান করা।

শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার আন্দোলনগুলো যেখানে শুরু হয়েছিল কর্মসংস্থানের উদ্বেগ থেকেই, সেখানে সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিপুল জনমত পেয়ে তারেক রহমানের সামনে এখন এক ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে দেশের অর্থনীতি পুনর্জীবিত করার। বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ানো এবং সামাজিক সুরক্ষা বৃদ্ধির মতো পরিবর্তনগুলোই দীর্ঘমেয়াদে দেশের জন্য ফলপ্রসূ হবে।

সংক্ষেপে, দেশের প্রকৃত চাহিদা হচ্ছে দ্রুত ও গভীর অর্থনৈতিক সংস্কার—যেখানে নীতিনির্ধারণী স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক সম্পর্কের কূটনীতিক সহায়কতা এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কারের সমন্বয় থাকবে। এই তিনফ্যাক্টরের ওপর সফলভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ আবারও দ্রুত প্রবৃদ্ধির পথে ফিরে আসতে পারবে এবং জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সক্ষম হবে.

পোস্টটি শেয়ার করুন