বুধবার, ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সেমিফাইনালে ভারতের ভাগ্য অনিশ্চিত

ওয়াংখেড়েতে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১০৭ রানের বড় জয় ভারতের সেমিফাইনাল স্বপ্নকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। সুপার এইট পর্বের এই ফল কেবল এক ম্যাচের হার নয়—পুরো গ্রুপের গাণিতিক চিত্রই পাল্টে দিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে ভারতের হারের পর থেকেই চাপের মুখে থাকা রবিউল-শুর্যকুমারদের দল এখন কেবল জয়ের উপর নির্ভর করছে না, জয়ের প্রয়োজনে তা হবে বিশাল ব্যবধানের জয়।

ম্যাচে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে শিমরন হেটমায়ার ৩৪ বলেই ৮৫ রানের ঝড়ো ইনিংসে টিমকে বড় স্কোর গড়তে সাহায্য করেন। অধিনায়ক রোভম্যান পাওয়েলের তাড়াহুড়ো ব্যাটিংয়ের সঙ্গে মিলিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬ উইকেটে ২৫৪ রান করে—এক প্রতিপক্ষ পুশানো স্কোর। লক্ষ্যের পিছনে নেমে জিম্বাবুয়ে ধীরে ধীরে উইকেট হারাতে থাকে এবং স্পিনার গুডাকেশ মোটির নিখুঁত বোলিংয়ে তারা আর কোনও প্রতিরোধ গঠন করতে পারেনি; ফলাফল হিসেবে তারা একশর বেশি ব্যবধানে পরাজিত হয়। এই জয়ের ফলে ক্যারিবীয়রা শুধুমাত্র পয়েন্ট টেবিলে অবস্থান দৃঢ় করেনি, তাদের নেট রানরেটও বড় হারে বাড়েছে — যা সরাসরি ভারতের ভাগ্যে প্রভাব ফেলেছে।

বর্তমান পরিস্থিতি ভারতের জন্য উদ্বেগজনক: তাদের নেট রানরেট নেতিবাচক -৩.৮০০। সেমিফাইনাল নিশ্চিত করতে হলে ভারতের এখন প্রতিটি বাকি ম্যাচে বড় ব্যবধানেই জিততে হবে। আগামীকাল এম এ চিদাম্বরাম স্টেডিয়ামে ভারতের প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে; একই দিনে আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি টक्कर হবে। ভারতীয় দলের ভাগ্য এখন সরাসরি ঐ ম্যাচের রূপের উপর নির্ভরশীল।

গাণিতিকভাবে ভারতের সামনে দুইটি প্রধান পথ আছে। এক—যদি ভারত বাকি দুই ম্যাচে (জিম্বাবুয়ে ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) জয় পায়, তখন তাদের পয়েন্ট হবে ৪। সেই অবস্থায় দক্ষিণ আফ্রিকা যদি তাদের বাকি সব ম্যাচ জেতে, ভারত দ্বিতীয় দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠতে পারে। দুই—যদি ওয়েস্ট ইন্ডিজ দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারায়, তাহলে ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ—এই তিন দলেরই পয়েন্ট থাকবে ৪; তখন সেমিফাইনারের সিদ্ধান্ত নেট রানরেটের উপর নির্ভর করবে। যেহেতু ভারতের নেট রানরেট এখন কম, তাই জিম্বাবুয়ে ম্যাচে বড় ব্যবধান গড়ে জেতা তাদের কাছে একেবারে আবশ্যিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অপরদিকে, বাকি কোনো এক ম্যাচে পরাজিত হলে ভারতের সেমিফাইনাল আশা অনেকটা ধোঁয়াশায় পড়ে যাবে। বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের কাছে পয়েন্ট হারালে ক্ষতি পূরণ করা কঠিন হবে। জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে গেলে ভারতকে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রাখতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে জিততেই হবে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকাকে তাদের সব ম্যাচ জিততে হবে — এমন পরিস্থিতিতেই তিন দলই একটি পর্যায়ে আটকে যেতে পারে এবং তখন নেট রানরেটই ভাগ্য নির্ধারণ করবে।

সংক্ষেপে, ভারতের সামনে এখন পাহাড়সম প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রতিটি ম্যাচ তাদের জন্য এক একটি ফাইনাল; বড় ব্যবধানের জয় না এনে পারলে সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন