বৃহস্পতিবার, ২৬শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বদলগাছীতে স্কুলের পাশে পুকুর খনন, শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকি বাড়ছে

নওগাঁর বদলগাছীতে ক্ষমতার প্রভাব দেখিয়ে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংলগ্ন জমিতে পুকুর খননের ঘটনায় সৃষ্টি হয়েছে বেশ উদ্বেগ ও আতঙ্ক। অভিযোগ উঠেছে, মিঠাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ওই এলাকাটিতে পুকুর খননকার্য চালাচ্ছেন, যেখানে তিনি নিজেই স্কুলের সভাপতি হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন। এই কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করা হচ্ছে মাটি, যা পরে ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। পরিকল্পিতভাবে খননকাজটি স্কুলের খুব কাছেই, মাত্র চার ফুট দূরত্বে, যেখানে ডোবা বা সুড়ঙ্গের মতো অবস্থায় রয়েছে। খননের গভীরতা অনুমান করা হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ ফুট, যা শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি করছে।

অভিযোগকারী ও স্থানীয় সূত্র জানাচ্ছেন, মূলত এই জমির এক পাশে রয়েছে সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য পাকা রাস্তা এবং উত্তর দিকে রয়েছে মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠ। দীর্ঘদিন ধরে এই জায়গাটিতে একটি ডোবা পড়ে ছিল, যা স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় দীর্ঘদিন থেকেই ভরাট করে এর安全িতা বাড়ানোর পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু গত জুলাই মাসে ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মিঠাপুর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার পর থেকে এই ডোবার ভরাটের কাজ শুরু হয়। এর পরে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ১৭ তারিখ থেকে এই পুকুর খননের কাজ শুরু হয়, যা ক্ষমতার প্রভাব বুঝিয়ে চালানো হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে স্থানীয় শিক্ষক ও অভিভাবকরা বলছেন, এই কাজে শিশু শিক্ষার্থীরা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তারা পরিবেশের নিরাপত্তার জন্য প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব বলেন, ‘পুকুর খনন শুরু হওয়ার সময় স্কুলের বেশ কয়েকজন শিক্ষক এ বিষয়ে মনোযোগী হয়েছিলেন এবং রিপোর্ট করেন, কিন্তু কারো শোনার প্রবণতা ছিল না। পরে উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেও বিষয়টি অবগত করেছি। শিশুদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এই কাজ বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।’

অন্যদিকে, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্কুলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন দাবি করেন, ‘মাটি বিক্রি হচ্ছে না, কেবল পার বাঁধার কাজ চলছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমি নিজে এখানকারই স্থানীয়। এই জমির মালিক আমি। নেতা হিসেবে আমি দায়িত্বশীল, সবকিছুর দেখভাল করছি। আপনি সরাসরি কথা বলতে পারেন।’ এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে স্থানীয় জনগণ, স্কুল এবং ইউএনও মিলে সিদ্ধান্ত নেবে। আপনি ইউএনওর সাথে কথা বলুন।’

প্রকল্পের কোনো অনুমোদন ছাড়াই খননের এই কার্যক্রম চলমান থাকলেও, সৈকত নামে এক ব্যক্তির কাছে থাকা মাটির কিছু অংশ ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। তিনি বলেন, ‘সংস্কার বা প্রাকৃতিক প্রয়োজনের জন্য কিছু মাটি সরানো হয়। এগুলো ইটভাটা বা ভরাটে ব্যবহৃত হচ্ছে, জানেন আপনি।’ তবে, প্রশাসনের কেউ এই কাজের অনুমোদন দেয়নি বলে তিনি দাবি করেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেলায়েত জানান, ‘ওই জায়গাটি আমাদের স্কুলের। সেখানে একটি প্রাচীন ডোবা ছিল, যেখানে ছাত্ররা খেলা ও পড়াশোনা করত। এখন আমরা স্কুলের সভাপতির উদ্যোগে এই ডোবা ভরাট করে পুকুর তৈরি করার কাজ দেখছি।’

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আমিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি বিষয়টি জেনেছি এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে জানিয়েছি। যদি এই খনন কাজ অব্যাহত থাকে, তবে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা রয়েছে।’

বদলগাছী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইসরাত জাহান ছনি জানান, ‘খবর পেয়ে পুকুর খননের কাজ বন্ধের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে।’

পোস্টটি শেয়ার করুন