শনিবার, ২৮শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

সিপিডি: ব্যবসায় দুর্নীতি প্রধান বাধা — কর, ব্যবসা ও ব্যাংকে ন্যায়পাল জরুরি

সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) মনে করে ব্যবসায়ের পরিবেশ উন্নয়নে প্রধান বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে দুর্নীতি। এ সমস্যা মোকাবিলায় কর ন্যায়পাল, ব্যবসাজনিত ন্যায়পাল এবং ব্যাংক ন্যায়পাল—এই তিনটি পদে স্বাধীন কর্মকর্তা নিযুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সিপিডি কার্যালয়ে “নতুন সরকারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত: ১৮০ দিন ও তারপর” শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এসব সুপারিশ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যবসা পরিচালনায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বাধ্যতামূলক হওয়ায় দুর্নীতি প্রকট হয়ে উঠেছে। তাই তিনটি ক্ষেত্রেই আলাদা ন্যায়পালের 필요 হয়েই এসেছে।

ড. মোয়াজ্জেম আরও জানান, গতকালে—অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে—রাজস্ব সংগ্রহ সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে ছিল। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত এখন খুবই কম। বর্তমান সরকারের লক্ষ্য রাজস্ব আহরণ বর্তমান আনুমানিক ৪ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ১৫ শতাংশে নিয়ে যাওয়া। তবে সম্পদ কর যুক্ত করার মতো প্রস্তাব থাকায় কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।

কর বৈষম্য কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-কে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করতে হবে বলে সিপিডি ইঙ্গিত দেয়। ওই কমিটি নিয়মিতভাবে কর অব্যাহতি, কর ফাঁকি, কর ছাড় এবং কর আহরণের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবে।

ভ্যাট নীতিতে সংস্কারের সুপারিশও অনুষ্ঠানে করা হয়—বর্তমানে আটটি ভ্যাট স্ল্যাব ধাপে ধাপে তিনটায় নামিয়ে আনা এবং দীর্ঘমেয়াদে দুই স্ল্যাব করে শেষে একক হারে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। এনবিআরের কর অবকাশ নীতিও পুনর্মূল্যায়নের পরামর্শ দেন তিনি; বিশেষ করে বিনোদন ক্লাব, পুঁজিবাজারের মতো খাতে প্রদত্ত কর অবকাশগুলো পুনর্বিবেচনা করা উচিত।

সিপিডি বলছে খাতভিত্তিক ও জ্বালানিভিত্তিক কর ছাড় ধীরে ধীরে তুলে দিয়ে সমন্বিত একক নীতির আওতায় সুবিধা দেওয়া উত্তম হবে। পাশাপাশি ব্যক্তি শ্রেণির পাশাপাশি সব ধরনের ব্যবসার জন্য অনলাইন কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও দিয়েছে সংস্থা।

ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনা রাখার পরামর্শ দেন তারা। আন্তর্জাতিক কর ফাঁকি রোধে বৈশ্বিক গাইডলাইন অনুযায়ী দ্বিপক্ষীয় চুক্তি কার্যকর করার আহ্বান জানানো হয় এবং এনবিআরের ভেতরে একজন স্বাধীন পরিচালক নিয়োগের ব্যাপারেও মত দেন গবেষকরা। তারা রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার দুইভাগে বিভক্ত কাঠামোকে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন।

সিপিডি তাদের বিশ্লেষণে বলছে নতুন সরকারের শুরুর দিকে ঘোষিত নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়িত হয় না। প্রশাসনিক অনাগ্রহ, আইনি জটিলতা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো থেকে সরে যাওয়ার প্রবণতাই এ সমস্যার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এজন্য বিকেন্দ্রীকৃত, জ্ঞানভিত্তিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নীতি বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়। জাতীয় সংসদের কার্যকর তদারকিও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সিপিডি তাদের গবেষণার ভিত্তিতে মোট ১২টি অর্থনৈতিক ও সামাজিক খাতে সরকারের নীতি ও প্রশাসনিক করণীয় চিহ্নিত করেছে। সংস্থাটি বলছে, দ্রুত এবং স্থায়ী ফলের জন্য এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন অত্যাবশ্যক।

পোস্টটি শেয়ার করুন