পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে সারা বিশ্ব কাঁপানো জনপ্রিয় পপ শিল্পী ও অসংখ্য কালজয়ী গানের রচয়িতা নিল সেডাকা আর নেই। গত শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) তিনি ৮৬ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন—এই খবর পরিবার এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন। তাঁর প্রয়াণে বিশ্ব সঙ্গীতজগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং ভক্তরা হারিয়েছেন সুরের এক অনবদ্য কারিগরকে।
পরিবারের শোকবার্তায় বলা হয়েছে, “রক অ্যান্ড রোলের এক সত্যিকারের কিংবদন্তি এবং লাখ লাখ মানুষের অনুপ্রেরণা হিসেবে তিনি আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন একটি আদর্শ স্বামী, পিতা ও পিতামহ। তাঁর চলে যাওয়া আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।” তবে পরিবারের তরফ থেকে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশ করা হয়নি।
নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে জন্ম নেওয়া নিল সেডাকা ছোটবেলা থেকেই সঙ্গীতপ্রেমী ছিলেন এবং জুলিয়ার্ড স্কুলে পড়াশোনা করেন। ১৯৫০-এর দশকে ‘দ্য টোকেনস’ নামক গ্রুপের মাধ্যমে তিনি সংগীতজীবন শুরু করেন এবং কিশোর বয়সেই গীতিকার হিসেবে প্রতিভার ছাপ রেখে দেন। ১৯৫৮ সালে রচিত ‘স্টুপিড কিউপিড’ গানটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সাড়া তোলে। গায়ক, গীতিকার ও দক্ষ পিয়ানোবাদক—এই তিনভূমিকাতেই তিনি নিজেকে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন।
তার গাওয়া ও রচিত গানগুলোর মধ্যে ‘ব্রেকিং আপ ইজ হার্ড টু ডু’, ‘ক্যালেন্ডার গার্ল’, ‘লাফটার ইন দ্য রেইন’ এবং ‘ব্যাড ব্লাড’ এখনও শ্রোতাদের মনে অম্লান হয়ে আছে। ষাটের দশকের মধ্যভাগে ব্রিটিশ ব্যান্ডগুলোর উত্থানে কিছুটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা পোহাতে হলেও তিনি সত্তরের দশকে অসাধারণভাবে ফিরে আসেন। ১৯৭৫ সালে এলটন জনের রেকর্ড লেবেলে কাজ করে আবারও বিলবোর্ড চার্টে শীর্ষে ওঠেন। তাঁর রচিত ‘লাভ উইল কিপ আস টুগেদার’ গানটি সংগীত ইতিহাসে একটি মাইলফলক বলে বিবেচিত হয়।
নিল সেডাকা পাঁচবার গ্র্যামি পুরস্কারের জন্য মনোনীত ছিলেন এবং ক্লাসিক্যাল সঙ্গীতের প্রতি ও তাঁর ব্যক্তিগত সংগীত কুশলতার প্রতি গভীর অনুরাগ পোষণ করতেন। দীর্ঘ ছয় দশকের ক্যারিয়ারে তিনি কেবল নিজের জন্যই নয়, contemporaries ও আরও অনেক বিশিষ্ট শিল্পীর জন্যও অনেকে হিট গান উপহার দিয়েছেন। ২০১২ সালে লন্ডনের রয়্যাল অ্যালবার্ট হলে এক কনসার্টে তিনি বলেছিলেন, গান ও সুরের মাধ্যমেই মানুষের ভালোবাসা পাওয়াই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা।
নিল সেডাকার সুর, রূপায়ণ ও সৃষ্টি বিশ্বজুড়ে সুরপিপাসুদের মনে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে। তাঁর প্রয়াণ এমনই এক বর্ণিল অধ্যায়ের সমাপ্তি, যা পপ সংগীত ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।





