ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট অস্থিতিশীলতার প্রভাব পড়ায় কাতার তার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন স্থগিত করেছে। কাতারের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি কাতারএনার্জি সোমবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রাস লাফান ও মেসাঈদ শিল্পনগরী লক্ষ্য করে হওয়া হামলার পর উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরান দুটি ড্রোন হামলা চালিয়েছিল। মেসাঈদে একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের পানির ট্যাংকে আঘাত লাগার এবং রাস লাফানে একটি জ্বালানি স্থাপনায় আঘাতের খবর পাওয়া গেছে। এসব হামলায় উৎপাদন বন্ধ নিয়ে উল্লেখ করা হলেও হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
কাতারএনার্জি তার বিবৃতিতে বলেছে, সবাইকে আপডেট দেওয়ার জন্য তারা অংশীদারদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্কের মূল্যায়ন চালিয়ে যাবে, তবে কবে থেকে উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা জানাননি।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার কারণে বিপুল আকারে তেল ও গ্যাস উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে; এর মধ্যে ইরাকের কুর্দিস্তানে তেল উৎপাদন ও ইসরায়েলের কয়েকটি বড় গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বন্ধের তথ্য রয়েছে।
এ সঙ্কট আন্তর্জাতিক বাজারে দ্রুত প্রতিফলিত হয়েছে। কাতারের এলএনজি উৎপাদন বন্ধের খবর প্রকাশ হতেই সোমবার ইউরোপীয় বাজারে গ্যাসের দাম এক ধাক্কায় প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যায়। আইসিই সূত্রে নেদারল্যান্ডসের বেঞ্চমার্কে প্রতি ১০ লাখ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গ্যাসের দাম বেড়ে ১৫.৯২ মার্কিন ডলারে দাঁড়ায়। এশীয় বাজারেও দিনের শুরুতে দাম প্রায় ৩৯ শতাংশ ঊর্ধ্বগতি দেখেছে; এমএমবিটিইউ প্রতি দাম ছিল ১৫.০৬৮ ডলার।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, যুক্তরাজ্য ও নেদারল্যান্ডসে গ্যাসের দাম অনেকাংশে বেড়েছে। জ্বালানী গবেষক উড ম্যাকেনজিরের গ্যাস ও এলএনজি গবেষণা ইউনিটের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাসিমো ডি অডোয়ার্দো বলেন, এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন হলে খুব দ্রুত এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে আমদানি নিয়ে প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিএনএনকে বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ কয়েকটি বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে; কাতার প্রয়োজন হলে জবাব দেওয়ারই কথা বলেছে, তবে বর্তমানে তারা ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে যেতে চায় না।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই অস্থিতিশীলতা ও সরবরাহের অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি মূল্যে তীব্র উত্থান-পতন চালিয়ে দিতে পারে। কাতারএনার্জির পক্ষ থেকে উৎপাদন পুনরায় চালু করার সময় সংক্রান্ত কোনো পরিষ্কার নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা থাকতেই পারে।





