মঙ্গলবার, ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫৫৫

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৫৫৫—এই তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি। তাদের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, এখনও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়ে গেছে।

মেহর নিউজ় এজেন্সি স্থানীয় কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে, শুধুমাত্র দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ফার্স প্রদেশেই ওই আক্রমণে অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। গত কয়েক দিনের ধারাবাহিক আকাশপথে আক্রমণে একের পরে এক জনপদ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক পরিস্থিতি ক্রিয়াশীলভাবে সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে।

রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত দেশজুড়ে প্রায় ১৩১ টি শহর এই বিধ্বংসী হামলার শিকার হয়েছে। সামরিক আলামত ছাড়াও বহু আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় নিহত ও আহতের সংখ্যা ও ক্ষয়ক্ষতি ব্যাপকভাবে増ে গেছে। আক্রান্ত শহরগুলোতে রেড ক্রিসেন্ট পরিচালিত উদ্ধার ও ত্রাণকাজ বন্ধহীনভাবে জারি রয়েছে।

দেশজুড়ে এক লাখেরও বেশি উদ্ধারকর্মী ও জরুরি সাড়াদানকারী দল সর্বোচ্চ সতর্কতায় কাজ করছে। এছাড়া প্রায় ৪০ লাখ স্বেচ্ছাসেবী একটি বৃহৎ নেটওয়ার্ক হিসেবে মানবিক সেবা, চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিগ্রস্তদের মানসিক সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে জীবিত ও নিহতদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। মেহর জানিয়েছে, অনেক এলাকায় যোগাযোগ ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হওয়ায় ত্রাণ কার্যক্রমে বড় ধরনের জটিলতা দেখা দিচ্ছে এবং উদ্ধারকাজে বাধা সৃষ্টি করছে।

রেড ক্রিসেন্ট বলেছে, পরিস্থিতির তীব্রতা বিবেচনায় তারা পুরো শক্তি নিয়ে ত্রাণ ও উদ্ধার অভিযানে যুক্ত আছে। হাসপাতালে আহতদের ভিড় বাড়ায় রক্তদাতা ও ওষুধের তৎক্ষণাৎ সঙ্কট দেখা দিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। স্বেচ্ছাসেবীরা উদ্ধারে সমান্তরালভাবে গৃহহীনদের আশ্রয় ও খাবার নিশ্চিতের কাজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

ইরানের সামরিক কমান্ড এই হামলাকে কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়ে ‘গণহত্যা’ বলে অভিহিত করেছে। তার বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দাবি করেছে, তাদের নিশানা ইরানের সামরিক সক্ষমতা; তারা বেসামরিকদের লক্ষ্য করছে না। তবু রেড ক্রিসেন্টের পরিসংখ্যান ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত শহরগুলোতে ব্যাপক বেসামরিক ক্ষতি আন্তর্জাতিক মহলে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়েছে।

বর্তমানে উদ্ধারকাজই ইরানের প্রথম অগ্রাধিকার। কিন্তু আকাশপথে নতুন হামলার আশঙ্কা কাটেনি। রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, তারা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলায় তাদের স্বেচ্ছাসেবক ও ত্রাণকর্মীদের মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রেখেছে এবং ভোগান্তি আরও বাড়লে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন