মঙ্গলবার, ৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় সোনাইমুড়ীতে জমি রেজিস্ট্রি ব্যাপকভাবে কমেছে

নামজারি খতিয়ানের জটিলতায় নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি ক্রয়-বিক্রয় প্রায় স্থবির স্তরে নেমে এসেছে; এতে সরকারি রাজস্বও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

অফিস সূত্র জানায়, একটি সময় এখানে প্রতি সপ্তাহে ১৫০–২০০টি দলিল রেজিস্ট্রি করা হতো। তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীন আল জান্নাত যোগদান করার পর দলিল রেজিস্ট্রি নাটকীয়ভাবে কমে এসেছে। প্রশাসকরা বলছেন, নামজারি সংক্রান্ত নথি কারণ-অকারণে বাতিল করে দেওয়ার ফলে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতারা জমি লেনদেনে বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। এখন মূলত হেবা ঘোষণাপত্র, ওসিয়তনামা ও দানপত্রের দলিলগুলোই নিয়মিত সম্পাদিত হচ্ছে; নামজারি সম্পন্ন করা নথি মিলছে খুবই কম—প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১৫–২০টি।

সোনাইমুড়ী সাব রেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সোহারাব হোসেন স্বপন বলেন, ‘‘বিগত সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই সমস্যা শুরু। আমরা উপজেলা ভূমি অফিসের এসিল্যান্ডের কাছে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো সমাধান হয়নি। নামজারি করাতে তহসিলে ও উপজেলা ভূমি অফিসে অতিরিক্ত ঘুষ দিতে হচ্ছে; সরকারি খরচের চাইতে তিনগুণ বেশি খরচ বলেও অভিযোগ উঠেছে। পদে আসার পরে অযথা নথি বাতিল করে দেওয়ায় জমির মালিকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।’’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জমির মালিক জানান, অনলাইনে নামজারি করার পরও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের তহশিলদারকে নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ দিতে হয়। এরপর উপজেলা ভূমি অফিসের অফিসারদের কাছে টেবিলভিত্তিক অর্থ দিতে না হলে ফাইল এগোচ্ছে না। কেউ-কেউ বলছেন, নথি এসি-ল্যান্ডের টেবিলে গেলে তিনি কাগজপত্রের ত্রুটি দেখিয়ে তা বাতিল করে দেন, ফলে পুনরায় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সোনাইমুড়ী নকল নবিশ সমিতির সভাপতি আমানুল্লাহ দাবি করেছেন, নামজারি জটিল হওয়ায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল রেজিস্ট্রির সংখ্যা কমেছে; এতে বাজারে দলিলের নকল সরবরাহও কমে এসেছে। পূর্বে সপ্তাহে প্রায় ৫০০–৭০০টি দলিলের নকল সরবরাহ হতো, যা এখন কমে ১০০–১৫০টিতে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, এর ফলে সরকার বড় অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলার জগজীবনপুর গ্রামের এক জমির মালিক স্বপন জানান, তার ওয়ারিশ সনদ পুড়িয়ে অন্যরা নামজারি করে নিয়েছে; অভিযোগ তুলে ছয় মাসেও কোনো নিষ্পত্তি হয়নি। তিনি আরও বলেন, উপজেলা ভূমি অফিসের নাজির রেজাউল তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে।

সোনাইমুড়ী সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সাব-রেজিস্টার সিরাজুল হক বলেন, ‘‘পূর্বের সঙ্গে তুলনা করলে এখন দলিল রেজিস্ট্রি ব্যাপকভাবে কমেছে। এর প্রভাব সরাসরি সরকারি রাজস্ব আয়েও পড়ছে।’’

স্থানীয়রা দাবি করছেন দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়ে নামজারি প্রক্রিয়া সহজ করতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষের জমি লেনদেন স্বচ্ছ ও সতর্কভাবে পুনরায় শুরু করা যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন