বুধবার, ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

এস এস রাজামৌলির ‘বারাণসী’—এন্টার্কটিকায় শুটিং

বাহুবলী ও আরআরআর-এর পর ফের আরও বড় ক্যানভাসে ফিরছেন পরিচালক এস এস রাজামৌলি। তাঁর নতুন মহাকাব্যিক চলচ্চিত্র ‘বারাণসী’-র শুটিং হবে বরফে আচ্ছাদিত মহাদেশ এন্টার্কটিকায় — যা ভারতের চলচ্চিত্র ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন একটি দুর্গম স্থানে শুটিং হওয়ার ঘটনা। সিনেমার গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ রচনার জন্য এন্টার্কটিকার ‘রস আইস শেলফ’-এর মতো এলাকাগুলোতে দৃশ্যধারণ করা হবে।

রামায়ণের ছায়ায় সাজানো এই কাহিনীতে নায়ক ‘রুদ্র’ চরিত্রে দেখা যাবে সুপারস্টার মহেশ বাবুকে এবং ‘মন্দাকিনী’ চরিত্রে থাকছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। খলনায়ক ‘কুম্ভ’ চরিত্রে অভিনয় করছেন পৃথ্বীরাজ সুকুমারন।

প্রিয়াঙ্কা সম্প্রতি ‘দ্য টুনাইট শো উইথ জিমি ফ্যালন’-এ উপস্থিত হয়ে জানান, হায়দরাবাদ, ওডিশা ও কেনিয়ার পর ছবির পরবর্তী গন্তব্য হচ্ছে এন্টার্কটিকা। তিনি বলেন, বিশ্ব সিনেমার ইতিহাসেও এ ধরনের শুটিং খুবই বিরল — এ পর্যন্ত মাত্র কয়েকটি ছবিই সেখানে শুটিং করেছে, এবং ‘বারাণসী’ সেই তালিকায় চতুর্থ হিসেবে নাম লেখাবে ও হবে প্রথম ভারতীয় চলচ্চিত্র।

রাজামৌলির এই প্রজেক্টের কাহিনি ত্রেতা যুগ থেকে কলি যুগ পর্যন্ত হাজার বছরের বিস্তৃত সময় জুড়ে ছড়িয়ে আছে। গল্প শুরু হয় প্রাচীন বারাণসীতে একটি বিশাল গ্রহাণু আছড়ে পড়ার ঘটনার মাধ্যমে, যা পৃথিবীকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। পৃথিবীকে বাঁচাতে নায়ক রুদ্র নানা মহাদেশ ও ভিন্ন ভিন্ন সময়কে অতিক্রম করে যাত্রা করেন — সেই যাত্রার অংশ হিসেবে তাকে এন্টার্কটিকা থেকে আফ্রিকার জঙ্গল পর্যন্ত বিভিন্ন পরিবেশে লড়াই করতে দেখা যাবে।

চলচ্চিত্রটির শুটিং ইতোমধ্যেই চলমান — প্রিয়াঙ্কা জানান, কাজ চলছে প্রায় ১৪ মাস ধরে এবং এখনও আনুমানিক ছয় মাস কাজ বাকি রয়েছে। এই ছবির মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ ছয় থেকে সাত বছরের বিরতির পর ভারতীয় সিনেমায় ফিরছেন। সব পরিকল্পনা ঠিক থাকলে রাজামৌলির এই মহাকাব্যিক ছবি ২০২৭ সালের ৭ এপ্রিল প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে।

প্রিয়াঙ্কার ঘোষণায় চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে ইতোমধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে; আন্তর্জাতিক মানের ভৌগোলিক প্রেক্ষাপটে নির্মিত এই ছবিটি যদি সফল হয়, তা হবে ভারতীয় সিনেমার জন্য এক নতুন অধ্যায়।

পোস্টটি শেয়ার করুন