বৃহস্পতিবার, ৫ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২০শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে জামায়াত

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার প্রতিবাদ ও দেশটিতে চলমান সামরিক হানার তীব্র নিন্দায় রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট এলাকায় রোববার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সমাবেশে দলের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরানে হামলা অবিলম্বে বন্ধ না হলে জামায়াত ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি একই সঙ্গে মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ইসরায়েলি পণ্যের বয়কটের আহ্বান জানান।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম সমাবেশে বলেন, ইরানের জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে সংঘটিত এই বর্বরোচিত আক্রমণ সম্পূর্ণভাবে গণতন্ত্রবিরোধী এবং নিন্দনীয়। তিনি জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দায়ী করে বলেন, বর্তমান সংকট মোকাবেলায় তারা ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হওয়ায় সাধারণ মানুষ এসব সংস্থাকে প্রত্যাখ্যান করবে। পরিস্থিতি উত্তেজনাকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বিশ্বশান্তি রক্ষার গুরুত্বে জোর দেন।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, মুসলিম বিশ্বের ওপর চলমান এই ধরনের আগ্রাসন বন্ধে জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যার ঘটনার সরকারি স্তরে নিন্দা প্রস্তাব আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

সমাবেশে চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মাওলানা রফিকুল ইসলাম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার ও বিচার কার্যকর করার আহ্বান জানান।

বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত জামায়াত নেতারা অভিযোগ করেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোকে অস্থিতিশিল করে তোলার উদ্দেশ্যে একের পর এক ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে। তারা বলেন, খামেনি হত্যার ঘটনা কেবল ইরানের জন্য নয়, পুরো মুসলিম উম্মাহর জন্য বড় এক আঘাত; তাই Muslim নেতাদের মধ্যে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্য গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে শুরু হওয়া বিশাল বিক্ষোভ মিছিলটি নগরীর প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার অঙ্গীকার করেন জামায়াত কর্মীরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন