শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ভেড়ামারায় জাটকা সংরক্ষণের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়নে জাটকা সংরক্ষণে সরকারের খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে বরাদ্দকৃত চালের বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কয়েকজন মেম্বারের বিরুদ্ধে এ অভিযোগে স্থানীয় জেলেদের মধ্যে তীব্র কষ্ট ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি উল্লেখ করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. নূরে আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জুনিয়াদহ ইউনিয়নে নিবন্ধিত ১০০ জন জেলের জন্য ভিজিএফ কার্যক্রমের আওতায় প্রতিজনকে ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ করা হয়েছিল। চাল বিতরণ নির্ধারিত ছিল ১৪ অক্টোবর ২০২৫। কিন্তু মাঠপর্যায়ে করা যাচাইয়ে দেখা যায় তালিকাভুক্ত অনেক জেলে তাদের প্রাপ্য চাল পাননি এবং বিতরণ শীটে তারাহঁদের স্বাক্ষর বা টিপসইও পাওয়া যায়নি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বরাদ্দকৃত চালের একটি অংশ চেয়ারম্যান ও কয়েকজন মেম্বার নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। অভিযোগ অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল সাড়ে ১০টার মতো ইউনিয়ন পরিষদের গুদামঘর থেকে চাল বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।

চাল পাননি এমনদের মধ্যে রয়েছে আব্দুর রশিদ (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং 4050150067000029), আব্দুস সামাদ (পিতা: কলিমদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং 4050150067000031), রাকিব (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং 4050150067000032), মো. রাজা (পিতা: মৃত আবদুল মণ্ডল, জেলে কার্ড নং 4050150067000034), কালু মণ্ডল (পিতা: নকিম উদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং 4050150067000037), আব্দুল মালিথা (পিতা: রহিম মালিথা, জেলে কার্ড নং 4050150067000039), হাইদার (পিতা: ইউনুস মণ্ডল, জেলে কার্ড নং 4050150067000065), মিনারুল (পিতা: ফয়েজ মণ্ডল, জেলে কার্ড নং 4050150067000088), জাহাঙ্গীর আলম (পিতা: হেলাল সদ্দার, জেলে কার্ড নং 4050150067000112), নুর ইসলাম (পিতা: আজের প্রামাণিক, জেলে কার্ড নং 4050150067000115), সাইদুর রহমান (পিতা: অজিত মণ্ডল, জেলে কার্ড নং 4050150067000132), কুদ্দুস মোল্লা (পিতা: রহমত মোল্লা, জেলে কার্ড নং 4050150067000139), সাজদার সরদার (পিতা: রুকচাঁদ সদ্দার, জেলে কার্ড নং 4050150067000141) এবং মিলন হোসেন (পিতা: নিজাম মণ্ডল, জেলে কার্ড নং 2709636)। প্রত্যেকের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ কেজি চাল।

ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমার কাছে আগে পৌঁছায়নি। আপনারা জানালে অবহিত হলাম। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ালে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আলী বলেছেন, ‘আমি শুনেছি ১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মেম্বাররা গুদাম থেকে কিছু চাল বের করেছে। তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।’

ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলেরা সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়রা আশা জানিয়েছেন যে তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে এ ধরনের কেলেঙ্কারি বন্ধ হবে এবং প্রকৃত প্রাপকদের তাদের সহায়তা পৌঁছাবে।

পোস্টটি শেয়ার করুন