শুক্রবার, ৬ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইরানে হামলা বন্ধ না হলে বৃহত্তর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি: জামায়াত

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। রোববার দুপুরে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট এলাকায় অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে দলটি তীব্র নিন্দা জানায় এবং ঘটনার প্রতিবাদ জানায়।

সমাবেশে জামায়াতের নায়েবে আমির এ টি এম আজহারুল ইসলাম হুঁশিয়ার করে বলেন, ইরানে চলমান হামলা অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে দল আগামী দিনে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করবে। একই সঙ্গে তিনি মুসলিম বিশ্বকে ঐক্য বদ্ধ হয়ে ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের আহ্বান জানান।

আজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, এমন বর্বরোচিত হামলা ইরানের জনগণের ইচ্ছার পরিপন্থী ও গণতন্ত্রবিরোধী। তিনি জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে কঠোর সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান বিভ্রান্তিকর সময়ে এসব সংস্থার ইতিবাচক ভূমিকা না থাকায় সাধারণ মানুষ তাদের প্রতি আস্থা হারাতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে বিশ্বশান্তি রক্ষার গুরুত্ব জোর দিয়ে বলেন।

দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান সমাবেশে বলেন, মুসলিম বিশ্বের ওপর চলমান আগ্রাসন রুখতে জাতিসংঘকে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। তিনি আগামী ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে খামেনি হত্যার ঘটনার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিন্দা প্রস্তাব আনার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।

রফিকুল ইসলাম খান আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে জামায়াত নেতা হাফিজুর রহমানকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনাটিকেও তিনি তীব্র নিন্দার যোগ্য বলছেন। তিনি দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

উপস্থিত জামায়াত নেতারা বলেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো মুসলিম দেশগুলোকে অস্থিতিশীল করার জন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে এবং খামেনি হত্যার ঘটনা কেবল ইরানের ক্ষতি নয়, সমগ্র মুসলিম উম্মাহর জন্য ব্যথাবিধান। তাই তারা মুসলিম নেতৃবৃন্দকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সমাবেশ শেষে বায়তুল মোকাররম থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল পথচারী সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে। মিছিল থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলবিরোধী নানা স্লোগান দেওয়া হয় এবং পরিস্থিতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকা ও প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন জামায়াতের কর্মীরা।

পোস্টটি শেয়ার করুন