গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের আকস্মিক পরিদর্শন হিসেবে, সেখানে বৈপরীত্য ও অনিয়মের দিকগুলো দেখা যায়। সকালে তিনি হঠাৎ করে হাসপাতালে এসে আসন্ন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। পরিদর্শনের সময় ধরা পড়ে, কিছু চিকিৎসক ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না, বিশেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজওয়ানা রশিদ প্রথমে কর্মস্থলে না থাকায় পরে দ্রুত হাসপাতালে আসেন। তিনি তাঁকে ছুটিতে থাকার কারণ জানালেও, কোনো সঠিক অনুমোদিত কাগজ দেখাতে পারেননি।
পরিদর্শনের সময় সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ আসে যে, চিকিৎসকরা নির্ধারিত সময়ের আগে হাসপাতালে উপস্থিত হন না, রোগীদের দেখা না করে নিজের কক্ষে বসে থাকেন। আর আউটডোরে রোগী দেখানোর জন্য সরকার নির্ধারিত ৩ টাকার টিকিটের পরিবর্তে ৫ থেকে ১০ টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া, ওষুধ বিতরণেও অনিয়মের বিষয়টি ফুটে ওঠে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেখতে পান, প্রেসক্রিপশনের অনুযায়ী সব ওষুধ দেওয়া হয়নি, কিছু ওষুধ পরে দেওয়া নিশ্চিত করা হয় বলে বাইরে থেকে জানানো হয়। হাসপাতালের সাফাই ও পরিষ্কারতাও মোটামুটি সন্তোষজনক বলে মত প্রকাশ করেন তিনি, তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
আরও জানা যায়, হাসপাতালটি ভবিষ্যতে ৩০০ শয্যায় উন্নীত করার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের একটি ডিও লেটার প্রয়োজন, যা পাওয়া গেলে বিষয়টি বিবেচনা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা নেওয়া হবে। অনুপস্থিত চিকিৎসক ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ব্যাপারে অঙ্গীকার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পরিদর্শনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন, এবং স্থানীয় মানুষ মনে করেন, এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে প্রভাব পড়বে।





